দুই বছর আগে মাকে হারিয়েছে শিশু সোয়াইবা। তখন তার বয়স মাত্র আড়াই মাস। মা নেই, সেই শূন্যতা অনুভব করলেও কষ্ট বুঝিয়ে বলার বয়স আজও তার হয়নি। জানালার গ্রিল ধরে মাঝেমধ্যে তাকিয়ে থাকে দূর আকাশে। হয়তো-সোয়াইবার শিশু মন দূর আকাশে মা সুমাইয়াকেই খোঁজে। সোয়াইবার মতো তাদের পুরো পরিবারই বয়ে চলেছে সুমাইয়াকে হারানোর ব্যথা।
জানা গেছে, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে মায়ের কাছে আড়াই মাস বয়সী মেয়ে সোয়াইবাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন গার্মেন্টস কর্মী সুমাইয়া। তার মা ভাড়া থাকতেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী নতুন মহল্লায়।
দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ২০ জুলাই। ওই বিকেলে ছয়তলার ফ্ল্যাটে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন সুমাইয়া। তখন একটি গুলি ওই ফ্ল্যাটের বারান্দার গ্রিল ছিদ্র হয়ে তার মাথায় লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন সুমাইয়া।
তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় সুমাইয়ার মরদেহ। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে শিশু সোয়াইবার পরিবার বলতে নানি, খালা ও মামা। তারাই তাকে দেখাশোনা করছেন।
সুমাইয়ার মা আসমা বেগম বলেন, সোয়াইবা হারিয়েছে তার মাকে, আর আমি হারিয়েছি আমার মেয়েকে। সুমাইয়ার মৃত্যুর পর থেকে কষ্ট করে নাতনিকে মানুষ করছি। নাতনিকে আগলে রাখা নিজের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারপরও সরকারের কাছে দাবি জানাই আমার নাতনির দায়িত্ব যেন সরকার নেয়।’ সুমাইয়া হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, ‘ঘটনার দিন হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়ার শব্দে আমরা নিরাপদ স্থানে সরে যাই। পরে চিৎকার শুনে সুমাইয়ার মায়ের ফ্ল্যাটে গিয়ে সুমাইয়াকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। সুমাইয়াসহ জুলাই অভ্যুত্থানে সব হত্যাকা-ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’
