ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তালিকায় গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ সড়কের নির্দিষ্ট স্থানে বসতে ‘ডিজিটাল পরিচয়পত্র’ পেয়েছেন হকার মো. ইব্রাহিম খান। নিয়ম অনুযায়ী, ডিএসসিসি এঁকে দেওয়া খোপে তার জুতার দোকান বসানোর কথা। তবে পরপর দুই দিন সেখানে গিয়েও ইব্রাহিমের দেখা মেলেনি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যেখানে দোকান থাকার কথা সেখানে তিনি বসছেন না, পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন অন্যত্র। সেই ‘অন্যত্র’ কোথায় সে প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি ইব্রাহিম।
একইভাবে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের ওয়াসা রোডে বসতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন হকার রমিজ উদ্দিন। তবে নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে রমিজ উদ্দিন জানান, কার্ডটি বাসায় রেখে তিনি গ্রামের বাড়িতে আছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন মিরপুর-১০ এ ব্যবসা করলেও কার্ড দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায়। আর তাই সেখানে বসতে তিনি রাজি নন। তার মতো অন্য হকাররাও বেঁধে দেওয়া জায়গার তোয়াক্কা করছেন না। সব মিলিয়ে স্মার্ট বা ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে রাজধানীতে হকারদের জন্য জায়গা নির্ধারণের উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে গেছে। শুরুর দিকে বিষয়টি নিয়ে দুই সিটির কর্তাদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও এখন তারা মুখ খুলতে নারাজ।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গত মে মাসে ইব্রাহিম খান ও রমিজ উদ্দিনের মতো ৮১৭ হকারকে স্মার্ট কার্ড দিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসার অনুমতি দেয়। এ জন্য ফুটপাত ও সড়কে সাদা রঙে খোপ এঁকে স্থানও ঠিক করে দেওয়া হয়। তবে সরেজমিন গিয়ে এসব জায়গায় কার্ডধারী কোনো হকারকে পাওয়া যায়নি। যারা সেখানে দোকান সাজিয়ে বসেছেন, তাদের বেশিরভাগ কার্ডের কথা জানেন না, আবার কেউ জানলেও পাননি। দুয়েকজন কার্ড পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তা বাসায় রেখে এসেছেন বলে দাবি করেছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এই কার্ড সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে থাকার কথা। হকারদের মতে, স্মার্ট কার্ড বিতরণের উদ্যোগটি ছিল স্রেফ লোক দেখানো। বাস্তবে এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। আরও ৯০০ নিবন্ধিত এবং নতুন হকারকে কার্ড দেওয়ার কথা
থাকলেও সেই কার্যক্রমও হাইকোর্টে রিটের কারণে আটকে গেছে। হকার পুনর্বাসনে প্রথমবারের মতো করা নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে গত মে মাসে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শুরু না হতেই শেষশোয়েবুজ্জামান। এরপর আদালত রুল জারি করলে স্মার্ট কার্ড বিতরণ স্থগিত ও পুনর্বাসন কার্যক্রম থেকে সরে আসে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি। সব মিলিয়ে হকার পুনর্বাসন কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। এক অর্থে মুখের বুলিতে পরিণত হয়েছে হকার পুনর্বাসন কার্যক্রম।
রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখল, যানজট, পথচারীদের চলাচলে বাধা এবং হকারদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম ঠেকাতে মে মাসের শুরুতে ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ করে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা নীতিমালায় প্রথমবারের মতো হকারদের নিবন্ধন, নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা, হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট, লাইসেন্স ফি এবং প্রশাসনিক তদারকির বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
তবে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের দাবি এ ধরনের কোনো নীতিমালা এখনো করা হয়নি। আদালতে রিটের কারণে হকার ব্যবস্থাপনা থমকে যায়নি দাবি করে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হকার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা প্রকাশ করলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।’ স্মার্ট কার্ড পাওয়া হকাররা নির্দিষ্ট স্থানে বসছেন নাÑ জানতে চাইলে প্রশাসক বলেন, ‘যারা বসছেন না, তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের কার্ড দেওয়া হবে। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে নয়, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কার্ড বানানো হচ্ছে।’
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সিস্টেম এনালিস্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০০ হকারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এই কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। কেন স্থগিত রয়েছে, সেটি আমার জানা নেই।’
ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি বিভাগ থেকে হকারদের স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্দেশ পেয়ে আমাদের বিভাগ হকার স্মার্ট কার্ড বিতরণ করেছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব সরকারের সময়েই হকার ইস্যুটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখনও সেটাই ঘটছে। বিভিন্ন সময়ে পুনর্বাসন, বহুতল মার্কেট নির্মাণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। এতে করে যুগের পর যুগ ধরে রাজধানীর ফুটপাতই হকারদের জীবিকার প্রধান ভরসা হয়ে আছে।
বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজধানীজুড়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এরপর প্রকৃত হকারদের তালিকা করে ‘ডিজিটাল পরিচয়পত্র’ দেওয়া এবং তাদের নির্দিষ্ট স্থানে বসার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী পুলিশ ও দুই সিটি করপোরেশন গুলিস্তান, মিরপুর-১০, মিরপুর-১ ও ২ নম্বর এলাকায় হকারদের তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, মিরপুর-১৩ নম্বরের ওয়াসা রোড এবং গাবতলী কাঁচাবাজারসংলগ্ন এলাকা চিহ্নিত করা হয়। দুই সিটি করপোরেশন গত ৩০ এপ্রিল ৮৬১ হকারকে স্মার্ট কার্ড দেয়।
জানা গেছে, ডিএসসিসি এলাকায় ৮৮৮ জন নিবন্ধিত হকারের মধ্যে ৬১৭ জন এবং ডিএনসিসি এলাকায় ৮২৯ জনের মধ্যে ২০০ জন স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন। তবে সরেজমিন ঘুরে নির্ধারিত স্থানে কার্ডধারী কোনো হকারকে পাওয়া যায়নি।
আগের মতোই গুলিস্তান : ডিএসসিসির তালিকা ধরে গুলিস্তানের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে কার্ডধারী হকার পাওয়া যায়নি। খোপে বসা অধিকাংশ দোকানি কার্ডের বিষয়ে কিছু জানেন না। সুমন শেখ নামের একজন টি-শার্ট বিক্রেতার কাছে কার্ডের কথা জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেনÑ ‘কিসের কার্ড?’ আব্দুল কাইয়ুম নামে আরেকজন হকার জানান, তিনি কয়েকজনের কার্ড পাওয়ার কথা শুনেছেন। তবে তারা কোথায় বসেন, তা জানেন না।
তবে গেঞ্জি বিক্রেতা ইয়াহিয়া খান কার্ড পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও সেটি বাসায় রেখে এসেছেন বলে দাবি করেন। ডিএসসিসির তালিকা থেকে ফোন নম্বর নিয়ে কার্ডপ্রাপ্ত একাধিক হকারকে কল করেন এই প্রতিবেদক। তারা সাংবাদিক পরিচয় শুনেই কল কেটে দেন। দুয়েকজন কথা বললেও দোকান বসানোর জায়গা জানাতে রাজি হননি। গুলিস্তান এলাকার চা দোকানি এনামুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমারে চারটি কার্ড দিবে বলে এখানকার বিএনপি নেতা সাগরের মামা রাফি ১ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কার্ড দেন নাই।’ আরেক হকার বলেন, ‘কার্ড নিয়ে লাভ কী! নেতা-পুলিশকে তো দৈনিক টাকা দিতেই হয়।’
সরেজমিন দেখা যায়, দাগ দেওয়া অনেক জায়গাই ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিং হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার যেখানে সর্বোচ্চ দুই শতাধিক দোকান বসানো সম্ভব, সেখানে কার্ড দেওয়া হয়েছে ৬১৭ জনকে। এতে দোকান বসানো নিয়ে হকারদের মধ্যে বিরোধ তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।
হকারদের অভিযোগ, ৪ থেকে ৫ ফুটের খোপে সব ধরনের ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে চা ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানে চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার, টেবিল ও ক্রেতাদের বসার চেয়ার রাখলে পাশের জায়গাও ব্যবহার করতে হয়। এতে পাশের দোকানের নির্ধারিত জায়গাও দখলে চলে যায়। হকারদের মতে, এভাবে পুনর্বাসনের চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়।
গাবতলী-মিরপুর-১৩তে যেতে অনীহা : মিরপুর-১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকার ২০০ হকারকে স্মার্ট কার্ড দিয়ে তাদের মিরপুর-১৩ নম্বরের ওয়াসা রোড ও গাবতলী কাঁচাবাজারসংলগ্ন সড়কে চলে যেতে নির্দেশ দেয় ডিএনসিসি। তবে সরেজমিন ওই দুই স্থানে কার্ডধারী কোনো হকারকে পাওয়া যায়নি। সেখানে আগে থেকে ব্যবসা করা হকাররাই আছেন। আবার মিরপুর-১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকাতেও কার্ডধারীদের দেখা মেলেনি। হকারদের দাবি, কার্ড পেলেও অনেকেই তা প্রকাশ করছেন না। কারণ তারা নির্ধারিত নতুন জায়গায় যেতে রাজি নন। সবাই আগের জায়গাতেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ক্রেতারা মিরপুর এলাকার। গাবতলীতে গেলে ব্যবসা হবে না। তাই মিরপুরের আশপাশেই জায়গা চাই।’ আরেক হকার বলেন, ‘আমাদের ১০০ জনকে মিরপুর-১৩ নম্বরে যেতে বলা হয়েছে। তবে ভাগে ভাগে নয়, গেলে সবাই এক সঙ্গে যাব।’ এক হকার জানান, তার পরিচিত একজন হকার কার্ড পেয়েছেন। অথচ তার কাছ থেকে লাইনম্যানের মাধ্যমে নেতারা ও পুলিশ টাকা নেয়। তাহলে এই কার্ডের সুবিধা কী?
টাকা যাচ্ছে নেতা-পুলিশের পকেটে : সরকারি নীতিমালায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত জায়গায় নিবন্ধিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে বসানো বা ভাড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। স্মার্টকার্ড সবসময় হকারের সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধিত সব হকারের তালিকা সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রতি মাসে হকারকে নির্ধারিত টোল বা ফি দিতে হবে।
তবে একাধিক হকার জানান, কার্ডধারীদের কাছ থেকেও লাইনম্যানের মাধ্যমে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন নেতা ও পুলিশ কর্তারা। ফলে কার্ডধারী হকারদের মাসিক টোল বা ফি সরকারি কোষাগারে জমা না পরে নেতা ও পুলিশের পকেটে ঢুকছে। তবে ৩০ এপ্রিল কার্ড দেওয়া হকারদের থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো ফি নেওয়া হচ্ছে না। এটা আমরা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছি।’ একই দাবি করছে উত্তর সিটি করপোরেশনও।
দায় এড়াচ্ছে পুলিশ : জানা গেছে, শুরুতে হকারদের তালিকা তৈরিতে পুলিশ সহযোগিতা করলেও এখন তারা দায়িত্ব নিতে রাজি নয়। মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হকারদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করে আমরা তালিকা ডিএসসিসিতে দিয়েছি। কারা কার্ড পাবেন, কোথায় বসবেন এই সিদ্ধান্ত সিটি করপোরেশনের।’ তিনি দাবি করেন, হকার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তারা ফুটপাত বা মূল সড়কে বসলে পুলিশের কিছু করার নেই। তবে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, হকাররা মূল সড়কে বসলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা আছে।
নগরবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাস্তা ও ফুটপাত তৈরি হয় জনসাধারণের চলাচলের জন্য। সেখানে স্মার্ট কার্ড দিয়ে ও নীতিমালা প্রকাশ করে হকার বসানোর বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ মৌলিকভাবে ভুল ছিল। সীমিত কয়েকটি স্থান ছাড়া ঢাকায় এভাবে হকার বসানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তারপরও যাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ধারিত স্থানে না বসার পেছনে একটি সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে। আগে এই চক্রকে শনাক্ত করতে হবে। এ ছাড়া কোন হকার কোথায় ব্যবসা করছেন, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা সিটি করপোরেশনের কাছে থাকতে হবে। হকার পুনর্বাসন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য থাকলে বিকল্প ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগে সরকার সুচিন্তিত পরিকল্পনা গ্রহণ করলে হকার পুনর্বাসন কার্যক্রম এখন থমকে যেত না।’
