চট্টগ্রামে এস আলমের সব কারখানা বন্ধ শ্রমিক ছাঁটাই

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪০ এএম

 

 

 

চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের উৎপাদনমুখী সব শিল্প-কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাঁচামালের তীব্র সংকট, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও আর্থিক সংকটের কারণেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার থেকে আর ঘুরছে না গ্রুপটির শিল্পচাকা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এসব কারখানার শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। এতে ১১টি কারখানার অন্তত আড়াই হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো হলো এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল।

একসময়ের দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত এস আলম গ্রুপের এই সিদ্ধান্তে শুধু হাজারো শ্রমিকের জীবিকাই অনিশ্চয়তায় পড়েনি, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শিল্পাঞ্চলের বড় একটি শিল্প কার্যক্রমও কার্যত থেমে গেল। চিনি, সিমেন্ট, ভোজ্য তেল, স্টিল ও অন্যান্য শিল্পপণ্য উৎপাদনকারী এসব কারখানা দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত পরিসরে চলছিল। শেষ পর্যন্ত কাঁচামালের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হওয়ায় সব কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

কারখানা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানায় শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। আকস্মিক ছাঁটাইয়ের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা। শুধু এস আলম সুগারই নয়; মূলত সবকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছাঁটাই করে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়া এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় কারখানাগুলো আগে থেকে বন্ধ ঘোষণা ছিল। তবে মজুদ কাঁচামাল দিয়ে কিছুদিন কারখানাগুলো চালু রাখা হয়েছিল। এসব কারখানায় আগে থেকে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও কার্যক্রম একেবারে বন্ধ ছিল না। এবারই সবগুলো প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মতে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে কর্মরতরা ফিরে যাক।’

এস আলম গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার (এইচআরডি) হোসেন রানা বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকগুলো এলসি সুবিধা বন্ধ করে দিলে কাঁচামাল আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই একের পর এক কারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ে। সে সময় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাই করা হলেও গত দুই বছর অবশিষ্ট প্রায় আড়াই হাজার জনবলের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ।’

তিনি বলেন, ‘গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের আশা ছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানাগুলো আবার চালু করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সেই পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে কারখানাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত