মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সরকারের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের নিকটতম গ্যাস পাইপলাইনের দূরত্ব সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার। মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ সীমান্তে নাফ নদীতে সাবসি পাইপলাইন নির্মাণ করলে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনা সম্ভব। একটি আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন নির্মাণ করলে মোট সংযোগ দৈর্ঘ্য রুটভেদে ৬০ থেকে ১০০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে টেকনাফ থেকে মহেশখালী পর্যন্ত পৃথক পাইপলাইন নির্মাণ ছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে এই গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব নয়।
মিয়ানমার ভারতে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য একটি চুক্তি সই করতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের গ্যাস গ্রিডের তুলনায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব কম। এ জন্য মিয়ানমার বাংলাদেশের কাছে গ্যাস বিক্রিতে বেশি আগ্রহী বলে বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও আন্তঃদেশীয় গ্যাস লাইন নির্মাণে দুই দেশের সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পৌঁছানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করা হয়। রাখাইন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নয়া পররাষ্ট্রনীতিতে সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু জ্বালানি আমদানি নয় মিয়ানমারে বিশাল জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে দেশটির কৃষি পণ্যের দামও তুলনামূলকভাবে খানিকটা কম।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন। পাশাপাশি পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনায় মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পুরনো উদ্যোগও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ ধরনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই উদ্যোগ পুনরায় বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিষয়টি এগিয়ে নিতে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রী উ কো কো লুইনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং প্রয়োজন হলে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব এসেছে। এ করিডর বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক আবার শুরু করে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির বিষয়টি কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিক থেকে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
