সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

৬ ঘণ্টা পর ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

সিরাজগঞ্জে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। 

উদ্ধারকাজ শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেলে রেল যোগাযোগ পুনরায় সচল হয়।

পরে সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা নীল সাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ইসমাইল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে একমাত্র রেললাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ছয় ঘণ্টা ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন বেলা ২টা ৪০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় ২  ঘন্টা  ৪০ মিনিটের উদ্ধার অভিযান শেষে লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে জামতৈল স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

এর আগে, সদর উপজেলার সদানন্দপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার কারণে অন্তত চারটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে শত শত যাত্রীকে দীর্ঘ সময় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চিলাহাটি এক্সপ্রেস উল্লাপাড়ায় আটকা ছিল। এছাড়া যমুনা সেতু পূর্বপারসহ বিভিন্ন স্টেশনে একতা, রংপুর, নীলসাগর ও ভুরুঙ্গামারী এক্সপ্রেস অপেক্ষমাণ ছিল।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ফারুক হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) রবিউল ইসলাম, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) শেখ আসিফ আহমেদ এবং বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (টেলিকম) আহমেদ ইশতিয়াক জহর তানিম। 



×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত