দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, সাংবাদিক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির।
তাদের দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে হামলা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এ সব হামলার বিচার চেয়ে বুধবার (৫ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত ছাত্র- গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিবির।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে আবাসন সংকট নিরসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে জকসুর নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, এ ঘটনায় জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেও দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা রোগী ও স্বজনদেরও মারধর এবং মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি করেন শিবির সভাপতি।
ঢাকা কলেজের ঘটনায় নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের জন্য দোয়া ও আহতদের সম্মাননা উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিউমার্কেট ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় পথচারীদের ওপরও হামলার অভিযোগ তোলেন।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি বলেন, বহিরাগতদের নিয়ে আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে হলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষও হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হামলা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের অভিযোগও করেন ছাত্রশিবির সভাপতি। তার দাবি, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই অনেক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা হামলাকারীদের আরও উৎসাহিত করছে।
এ সময় সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, ডাকসু জিএস ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
