কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে অভিযানে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় এক বিজিবি সদস্যের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছে বিজিবি।
আটকরা হলেন টেকনাফ উপজেলার মনিরগুনা গ্রামের মো. রাশেদ (২০), উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ (২২)। তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপর আটক হলেন নাফ নদীসংলগ্ন কোনাপাড়া পোস্ট এলাকার মো. বোরহান উদ্দিন (১৭)। তার কাছে থাকা ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন খবর পেয়ে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল উখিয়ার ক্যারেঙ্গাগোনা এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দুই ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়। একপর্যায়ে তাদের তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দাবি, অভিযানের সময় বোরহান উদ্দিনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তার মা। এ সময় তিনি নৌকার বৈঠা দিয়ে এক বিজিবি সদস্যকে আঘাত করেন। পরে আশপাশের কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া ইয়াবা বিওপিতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা এনে একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আটকদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
