১২ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ক্যান্সারে দীর্ঘ তিন বছর লড়াইয়ের পর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু, অন্যজনের প্রাণ গেল কর্ণফুলী নদীতে ডুবে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

গত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের একজন দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে এবং অন্যজন রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে মারা গেছেন।

চবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র দাস (২৪) দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দীর্ঘ তিন বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুরে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন অনিক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতের একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরে চাঁদপুরের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অনিকের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর আসে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদী থেকে চবি শিক্ষার্থী সাজিদ শাহারিয়ার সানমের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান।

পুলিশ জানায়, রবিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে কাপ্তাইয়ের সীতা ঘাটের পাথরঘাটা এলাকা থেকে সানমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সানম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ওই উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।

জানা গেছে, রবিবার সকালে নরসিংদী ও ঢাকা থেকে ৯ জনের একটি পর্যটক দল কাপ্তাইয়ে যায়। পরে স্থানীয় গাইডের সঙ্গে তারা সীতা পাহাড়ে ট্র্যাকিংয়ে যান। পাহাড়ে ঘোরাঘুরি শেষে দুপুরের দিকে সীতা ঘাটের পাথরঘাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে হাত-মুখ ধুতে নামেন তাঁরা। এ সময় স্রোতের টানে সানম গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

পরে কাপ্তাই থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে নদী থেকে সানমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সানমের বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁরা ৯ জন সকালে কাপ্তাইয়ের সীতার পাহাড়ে ওঠেন। পাহাড় ভ্রমণ শেষে নদীতে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য ঘাটে নামার পর মুহূর্তের মধ্যে সানম পানিতে পড়ে যান। পরে নদীর তীব্র স্রোতে তিনি তলিয়ে যান।

কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, সানমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধারে কাজ করছিল। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, তাঁরা সানমের নিখোঁজের খবর পেয়েছিলেন। তাঁর বাবা একজন পুলিশ কর্মকর্তা। পরে ডুবুরি দলের অভিযানে তাঁকে নদী থেকে তুলে আনার খবর পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দুই শিক্ষার্থীকে হারিয়ে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।

শোকবার্তায় তাঁরা অনিক চন্দ্র দাসের বিদেহী আত্মার শান্তি এবং সাজিদ শাহারিয়ার সানমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুর রব হলের সামনে ব্যানার টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম মারা যান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত