রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ এএম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ হাজার ৪৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশি মুদ্রায় গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। আর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে টাকায় হিসাব করলে প্রকৃত পরিমাণ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরায় রিজার্ভে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার ওপরও এখন তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এসব কারণে রিজার্ভের ওপর আগের মতো চাপ তৈরি হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভের দুটি হিসাব করা হয়। এর মধ্যে গ্রস রিজার্ভে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দেখানো হয়। অন্যদিকে আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে কিছু সম্পদ ও দায় সমন্বয় করে রিজার্ভের হিসাব করা হয়। ফলে দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিজার্ভ বাড়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহও বাড়ছে। এতে একদিকে ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ডলার সরবরাহের চাপ কমছে। এর আগে গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সের প্রবাহ ঠিক থাকলে সামনে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদরা জানান, রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকা নিঃসন্দেহে স্বস্তির বিষয়। তবে রিজার্ভের এই অবস্থানকে টেকসই করতে হলে শুধু রেমিট্যান্স বাড়লেই হবে না; রপ্তানি আয় বাড়ানো, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আমদানি ব্যয়ে ভারসাম্য আনতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত