প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক জনসভায় বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’
চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গতকাল বাঁশখালীর বাহারছড়ায় বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’
দেশের প্রতিটি পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকা। সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ-যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা তার বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলাতেও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড, যা সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষিরাও পাবেন। লবণ চাষিদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণাও শিগগিরই দেওয়া হবে, যার ফলে লবণ চাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’
চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতেগোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশা আল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা কেমন হবে সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা বাসাবাড়ি সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায় এবং সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছি একটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে অঞ্চলের দুই ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশা আল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য, তা হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যতগুলো কর্মসূচি নিয়েছি, সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি শ্রমিকের হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে, যাতে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে প্রতিজ্ঞা করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’
বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী ও বিএনপি নেতা রাসেল ইকবাল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ। এ ছাড়া বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বাঁশখালীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন সভার সভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের বাঁশখালীতে এটি প্রথম সফর। এর আগে ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাঁশখালীতে আসেন এবং শংখনদীর উপর তৈলারদ্বীপ সেতুর উদ্বোধন করেন। তারেক রহমান বন্যার্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তায় ১০০ জনের জন্য নির্মিত ঘরের মধ্যে ১০ জনের হাতে চাবি হস্তান্তর করেন। ২০০ জন জনকে খাদ্যসামগ্রী সহায়তাসহ প্রতিবন্ধীদের মধ্যে সহযোগিতা প্রদান করেন।
‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাহারছড়া গ্রামের বিধবা সাজেদা বেগমের নতুন বাড়ি উদ্বোধন করেন এবং তার কাছে বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন।
নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।
মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন
বাঁশখালীতে আসার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ি আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে অবস্থিত এই ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ¦ালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করে তাদের উৎসাহ প্রদান করেন। ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। তিনি প্রকল্প এলাকায় একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন ।
পরে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত করেন। একই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখানো হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিষয় তার সামনে তুলে ধরেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামছুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা প্রমুখ।
হাটহাজারীতে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
গতকাল রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দেশজুড়ে একটি রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে তা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশ গঠন, অর্থনীতি সচল করা এবং জনগণের সামাজিক ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে। সেজন্য এক এক করে পরিকল্পনা তৈরি করছি। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। কিন্তু দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে দেখছি, কিছু সংখ্যক মানুষ ও রাজনৈতিক দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।’
‘যারা ১৯৮৬ সালে বলেছিল, স্বৈরাচারের সাথে যারা নির্বাচনে অংশ নেবে, তারা জাতীয় বেঈমান হবে। কিন্তু তারাই স্বৈরাচারের সাথে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। একটি গুপ্ত বাহিনী জাতীয় বেঈমান হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিল। এই গুপ্ত বাহিনীকে আমরা ’৯৬ সালে দেখেছি, স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়েছিল। আজকে আবারও এই গুপ্ত বাহিনীকে দেখছি, তারা মানুষের মধ্যে বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রামে বহু শিল্পকারখানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ ব্যবসার সাথে জড়িত। ব্যবসা করতে হলে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দরকার। দেশে যদি শিল্পকারখানা বাড়ে, দেশের সন্তানদের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। নারীদের কর্মসংস্থানের হবে। ফলে দেশের আয়-উন্নতি হবে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ সরকারের সময় দেখেছি, তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু তাদের এসব পরিকল্পনা মানুষের কাজে আসেনি। তাদের অপরিকল্পিত পরিকল্পনাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা সংসদে উপস্থাপন করব আগামী ১০ বছর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ-গ্যাসের ব্যবস্থা কী হবে? ব্যবসায়ীরা যাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করতে পারি এই দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস থাকবে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যেই দল দেশের জন্য রাজনীতি করে। বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যে দল দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে। আমরা জানি, আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। যেহেতু জনগণ বিএনপির ৩১ দফাকে সমর্থন দিয়েছে, সেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য। কারণ, এই ৩১ দফা এখন আর বিএনপির নয়। এটা এখন জনগণের দফা। জনগণের ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সকল বাধা উপেক্ষা করে যাবে।’
হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকেল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির বর্ষীয়ান আলেম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ৯ দফা দাবি সম্বলিত ওই চিঠি দেওয়া হয়। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীর দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন।
