বিদেশি নির্ভরতা কমাতে কিউরেটর তৈরির উদ্যোগ বিসিবির

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

ক্রিকেট মাঠের ঘাস, মাটি কিংবা পিচ-সবকিছুর নেপথ্যে থাকা মানুষটি সাধারণত আলোচনার বাইরে থাকেন। কিন্তু মাঠের চরিত্র ঠিক করে দিতে তার ভূমিকা কম নয়। এবার সেই নেপথ্যের কারিগরদেরই আরও দক্ষ করে তুলতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো কিউরেটর লেভেল-১ কোর্স আয়োজন করেছে। এই কোর্সের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্টের প্রধান টনি হেমিং।

ক্রিকেট মাঠ ও টার্ফ ব্যবস্থাপনায় পেশাদার দক্ষতা বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটি শুরু করেছে দুই ধাপের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে প্রথম পর্ব। দুই দিনের এই কোর্সে মূল প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন আইসিসি স্বীকৃত কিউরেটর ও মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞ হেমিং। তার সঙ্গে সহ-প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম মাঠের দায়িত্বে থাকা বিসিবির অভিজ্ঞ কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু।

চট্টগ্রাম পর্বে অংশ নিচ্ছেন কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পূর্বাচল ও ফতুল্লা স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীরা। শুধু মাঠ পরিচর্যার দৈনন্দিন কাজ নয়, একজন কিউরেটরকে পেশাগতভাবে আরও দক্ষ করে তুলতেই সাজানো হয়েছে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু। 

বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্য সচিব মাজহার উদ্দিন জানান, দেশে কিউরেটরের সংখ্যা বাড়ানোই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। 
কোর্সের প্রথম দিনটি সাজানো হয়েছে তত্ত্ব ও ব্যবহারিক শিক্ষার সমন্বয়ে। দিনের প্রথম ভাগে অংশগ্রহণকারীদের মাঠ ও পিচ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। মাটির বৈশিষ্ট্য, মাটির আচরণ, পিচ তৈরির প্রক্রিয়া-এসব বিষয়ে দেওয়া হয় বিস্তারিত প্রশিক্ষণ। এরপর দিনের দ্বিতীয় ভাগে শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানকে মাঠে প্রয়োগের সুযোগ পান প্রশিক্ষণার্থীরা। মাঠের বিভিন্ন কাজ এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সঠিক প্রয়োগও হাতেকলমে দেখানো হয়।

দ্বিতীয় দিনেও থাকবে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক নানা কার্যক্রম। তবে প্রশিক্ষণ শেষ করলেই সনদ মিলছে না। অংশগ্রহণকারীদের পরীক্ষায় বসতে হবে। যারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, কেবল তাদেরই দেওয়া হবে কিউরেটর লেভেল-১ কোর্সের সনদ।

চট্টগ্রামের পর দ্বিতীয় পর্ব হবে ঢাকায়। আগামী ২৩ ও ২৪ আগস্ট মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রশিক্ষণ। সেখানে অংশ নেবেন মিরপুর, বিকেএসপি, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, বগুড়া ও রাজশাহীর মাঠকর্মীরা।

দুই পর্ব মিলিয়ে মোট ৭০ জন মাঠকর্মীর এই কোর্সে অংশ নেওয়ার কথা। সংখ্যাটি হয়তো খুব বড় নয়, কিন্তু বিসিবির পরিকল্পনাটি দীর্ঘমেয়াদি। কারণ দেশের ক্রিকেট যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই বাড়ছে মানসম্মত টার্ফ ও ক্রিকেট মাঠের প্রয়োজন। আর ভালো মাঠের ভিত্তি তৈরি হয় দক্ষ কিউরেটরের হাতে। এতদিন দেশের ক্রিকেটে কিউরেটর তৈরির ক্ষেত্রে বিদেশি প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরতা ছিল। বিসিবির এবারের উদ্যোগ সেই নির্ভরতা কাটিয়ে নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরির প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

 
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত