বিশ্বব্যাংকের নর্দমায় গুরুদাসপুরে নাভিশ্বাস

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উন্নয়নকাজ শুরু হলেও ঠিকাদারের গাফিলতি ও নিম্নমানের রড-পাথর ব্যবহারের অভিযোগে থমকে আছে প্রকল্পটি; ফলে আশীর্বাদ হয়ে আসা ৪৭ লাখ টাকার কাজই এখন এলাকাবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগের কারণ!

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১০ পিএম

রাস্তার পাশে যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি, যাতায়াতের পথে জমে থাকা নির্মাণসামগ্রী আর মাসের পর মাস পড়ে থাকা অসমাপ্ত ড্রেন—নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার অন্তত শতাধিক পরিবারের জন্য এগুলো এখন নিত্যদিনের চরম যন্ত্রণার নাম।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন আরসিসি ড্রেন ও স্ল্যাবের কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষার পানি অপসারণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গেট থেকে সুফিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন ও স্ল্যাব নির্মাণে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির দায়িত্ব পায় এবং মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন সেলিম শাহ।

গত ১০ মার্চ প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১০ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো অসমাপ্ত পড়ে রয়েছে।

পৌর প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুরুতে প্রায় ১৩০ মিটার ড্রেন ও স্ল্যাবের কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ওই অংশের বিল পরিশোধ করা হয়। তবে পরবর্তী প্রায় ৭৩ মিটার অংশের কাজে নিম্নমানের পাথর এবং নির্ধারিত মানের বাইরে গিয়ে ১২ মিলিমিটার রডের সঙ্গে ৮ মিলিমিটার রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টির সত্যতা পেয়ে কাজের মান ঠিক রাখতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গত ২১ এপ্রিল ও ২৬ জুন দুই দফায় চিঠি দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ এবং একপর্যায়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে শিডিউল ও বিধি মেনে কাজ শেষ করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ঢালাইয়ে আবারও নিম্নমানের পাথর ও নির্ধারিত মানের বাইরে গিয়ে রড ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় বাড়িঘরে যাতায়াত, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ চলাচল এবং বর্ষার পানি অপসারণে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অতি দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

এ বিষয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিধি ও শিডিউল মেনে কাজের মান নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সেলিম শাহ বলেন, তাঁরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন।

গুরুদাসপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ কঠোর বার্তা দিয়ে জানান, প্রকল্পটি দাতা সংস্থার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাই কাজের স্বচ্ছতা ও মানের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মানসম্মতভাবে কাজ না হওয়ায় একপর্যায়ে তারা কাজ বন্ধও করে দিয়েছিলেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের এখন একটাই প্রত্যাশা—কাগজে-কলমে প্রশাসনিক নির্দেশ কিংবা ঠিকাদারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যেন দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হয়। কারণ উন্নয়নের শুভ সূচনা হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটিই এখন তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত