এলএনজি টার্মিনালে ভিড়তে পারছে না জাহাজ, চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ ভিড়তে না পারায় চট্টগ্রামজুড়ে আবার তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর থেকে হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাবাড়ির গ্রাহক ও পরিবহন চালকেরা। পাশাপাশি এই সুযোগে গণপরিবহনে শুরু হয়েছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকেই নগরীর হালিশহরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের অভাবে সময়মতো রান্না করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে হালিশহরের বাসিন্দা গৃহিণী তামান্না আক্তার বলেন, সকাল ৭টার পর থেকেই চুলায় আগুন নেই। ভেবেছিলাম কিছুক্ষণ পর গ্যাস আসবে, কিন্তু কিছুই এলো না। হুটহাট এভাবে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া গ্যাস চলে গেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের চলাটাই কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে নগরীর টাইগারপাস, ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনসহ সিংহভাগ সিএনজি স্টেশনে ছিল গ্যাসচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে গ্যাস পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় গ্যাস ভরতে দীর্ঘ সময় লাগছে।

৩নম্বর রুটের বাসচালক শাহজাহান মিয়া জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে গিয়ে সময় ও আয় দুটোই নষ্ট হচ্ছে, তাই খরচ সামলাতে বাড়তি ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

হালিশহরের বাসিন্দা গৃহিণী আনিকা সুলতানা বলেন, পাঁচলাইশ থেকে হালিশহরের নিয়মিত ভাড়া সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা। কিন্তু এখন গ্যাস সংকটের অজুহাতে ৩০০ টাকার কমে যাচ্ছে না।

চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ কম থাকায় বর্তমানে চাহিদার অর্ধেকের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) উপ মহাব্যবস্থাপক মো. রফিক খান বলেন, গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রামে ১৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সরবরাহ কমছে। কবে বাড়বে আমাদের জানা নেই।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, এবারের সংকটের মূল কারণ মহেশখালীর সামুদ্রিক বৈরী আবহাওয়া। টার্মিনালে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বাতাসের গতিসীমা সর্বোচ্চ ২০ নট হওয়া প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তা প্রায় ৩৮ নটে অবস্থান করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এলএনজিবাহী জাহাজটি ভেড়ানো যাচ্ছে না। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে মহেশখালী থেকে ৪০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে; জাহাজটি ভিড়তে পারলে এই সরবরাহ ৭৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত