জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলা পরবর্তী বিচারের জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে।
মামলাটি বিচারের জন্য বদলি হওয়ায় বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন।
গত ৩০ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফ হোসেন এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে নিহত জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটভুক্ত অপর দুই আসামি হলেন বর্ষার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। এই তিন আসামিই হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চার্জশিটে বলা হয়, জোবায়েদ দীর্ঘদিন আসামি বর্ষার বাসায় গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াতেন। এই সূত্রে জোবায়েদ ও আসামির মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
বর্ষার সঙ্গে অপর আসামি মাহিরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে গৃহশিক্ষক জোবায়েদ হোসেনের সঙ্গেও বর্ষার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে মাহির চরম ক্ষুব্ধ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে।
জোবায়েদ নিজের কাছে দুজনের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করেছেন, এমন অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করতে মাহিরকে প্ররোচিত করে বর্ষা। মাহির তার বন্ধু আয়লানকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তার সহায়তায় ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
বর্ষা জোবায়েদের সঙ্গে সবময় হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখতেন। ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে উভয়ের মধ্যে লাইভ লোকেশনও শেয়ার হয়। একই সময়ে বর্ষা ও মাহিরের মধ্যেও একাধিকবার যোগাযোগ হয়। বর্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জোবায়েদের অবস্থান ও চলাফেরার তথ্য মাহিরকে সরবরাহ করছিলেন।
ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বর্ষার বাসায় জোবায়েদ পড়াতে গেলে মাহির ও আয়লান ঘটনাস্থলে ওত পেতে থাকেন। জোবায়েদ বাসার নিচতলায় প্রবেশ করলে মাহির তাকে কথোপকথনের নামে থামিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে মাহির তার কাছে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে জোবায়েদের গলার সজোরে আঘাত করেন।
এতে জোবায়েদ গুরুতর আহত অবস্থায় আত্মরক্ষার্থে সিঁড়ির উপরের দিকে দৌড়ে উঠতে গেলে তৃতীয় তলার সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই মারা যান।
গত ২১ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে রাজধানীর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওইদিনই বর্ষাসহ এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া এ মামলায় ওইদিন প্রীতম নামে আরেকজন সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন।