মুক্তি পেল জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে চাকসুর প্রামাণ্যচিত্র দ্য ক্রিমসন হিলফায়ার

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

দীর্ঘ দুই মাসের শুটিং শেষে মুক্তি পেয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) প্রামাণ্যচিত্র The Crimson Hillfire।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পায় এই প্রামাণ্যচিত্র।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্র। প্রায় ৫০ মিনিট দৈর্ঘ্যের প্রামাণ্যচিত্রটি এর আগে চাকসুর উদ্যোগে গত ৪ ও ৫ আগস্ট দুই দিনব্যাপী আয়োজিত "জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট"-এ প্রদর্শিত হয়েছিল।

প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের রাজপথে নেতৃত্বদানকারী চবি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চবির শহীদ ও আহতদের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। চবির দুই শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ও ফরহাদ হোসেনকে এই প্রামাণ্যচিত্র উৎসর্গ করা হয়েছে। 

প্রামাণ্যচিত্রটির প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতাব্বর এবং নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে ছিলেন সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ আহনাফ। পরিচালনায় ছিলেন ফয়সাল আহমেদ সিরাজী, আর ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে পান্থর ফিল্ম'স।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চবি শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়সমূহ, ক্যাম্পাসে প্রতিরোধের চিত্র এবং তৎকালীন ঘটনাপ্রবাহকে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সংরক্ষণের লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছে এই ডকুমেন্টারি। এতে আন্দোলনের নেপথ্যের বিভিন্ন ঘটনা, শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। চাকসুর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, এবং সেই ইতিহাসে চবি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করাই এই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য।

প্রামাণ্যচিত্রের প্রযোজক এবং চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতাব্বর বলেন, “আমরা এই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণের ক্ষেত্রে আন্দোলনের প্রতিটি স্টেকহোল্ডারের সাথেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। যারা সাক্ষাৎকার দিতে আগ্রহী ছিলেন, আমরা তাঁদের সকলের বক্তব্য ধারণ করেছি। প্রামাণ্যচিত্রটিতে আমরা প্রায় ৩২ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ​আমরা শুরু করেছি ৫ জুন থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে ১ জুলাই থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনার ধারাবাহিক ‘রোডম্যাপ’ অনুযায়ী পুরো প্রামাণ্যচিত্রটি সাজানো হয়েছে। এতে ছাত্র-ছাত্রী ও নারী শিক্ষার্থীসহ সকলের অবদানকে সমভাবে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস আমরা পেয়েছি।”

​তিনি আরও বলেন, “একটি বিশাল দল এই কাজের পেছনে কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমি তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, চাকসু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে যে উদ্যোগ নিয়েছে এবং যে কাজ করেছে, তার মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনা বেঁচে থাকবে। জুলাইয়ের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই মূলত আমাদের এই আয়োজন।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত