স্ত্রীর আপত্তিতে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন টোটা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একের পর এক সিনেমা, শুটিং ও ফেলুদার চরিত্রের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত তিনি।

তবে কাজের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন এই অভিনেতা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবন, পরিবার, টলিউড, হিন্দি চলচ্চিত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন টোটা।

হলিউডের একটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন টোটা। চরিত্রটিও তার পছন্দ হয়েছিল। তবে সিনেমাটিতে একটি শয্যাদৃশ্য থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন তিনি। 

টোটা জানান, হলিউডের ধাঁচের এমন দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি রাজি ছিলেন না। নির্মাতাদের তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, দৃশ্যটি বাদ দিলে তিনি কাজ করবেন, অন্যথায় তাকে বাদ দিতে হবে। 

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় না করার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, তার স্ত্রী শর্মিলি রায়চৌধুরী এ ধরনের দৃশ্য পছন্দ করেন না।

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অভিনয়ের প্রয়োজনে অনেক কিছুই পেশাগতভাবে করা সম্ভব। তবে তার স্ত্রী যে বিষয়টি পছন্দ করেন না এবং যা তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়, সেটি তিনি করতে চান না।

নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সচেতন টোটা। তার মতে, অভিনয় দর্শকের সামনে তুলে ধরবেন তিনি, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগতই রাখতে চান। শুটিং সেটে স্ত্রীকে না আসার বিষয়েও তিনি আগে থেকেই কথা বলেছিলেন।

টোটার ভাষায়, স্ত্রী সেটে থাকলে তার মন অভিনয়ের বদলে স্ত্রীর দিকে চলে যেতে পারে। তার স্ত্রীও শুটিং সেটে যাওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না।
ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের কথাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন টোটা। একসময় দীর্ঘদিন তেমন কাজ পাননি তিনি। তবে সেই সময়কে এখনো নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। তার মতে, জীবনে খারাপ সময়ের পর ভালো সময় আসে। অতীতের ব্যর্থতা তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে এবং কঠিন সময় পার করার অভিজ্ঞতাই এখনকার ভালো সময়কে মূল্য দিতে সাহায্য করে। 

একসময় যারা তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন না, এখন তারাই যোগাযোগ করেন—এ বিষয়েও কোনো অভিমান নেই টোটার। তিনি মনে করেন, অভিনয় একটি পেশাগত জায়গা। যখন যার প্রয়োজন হবে, তখন সে যোগাযোগ করবে। এসব নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মন খারাপ করে লাভ নেই।

পারিবারিক গয়নার ব্যবসা থাকলেও সেই পথে যাননি টোটা। পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের বড় ছেলে হওয়ায় তার ওপর ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। তবে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই শেষ পর্যন্ত এই পেশাকে বেছে নেন তিনি। বাবার পরামর্শ ছিল, একই সঙ্গে দুই পথে না গিয়ে একটি পেশায় পুরোপুরি মন দেওয়া। সেই পরামর্শ মেনেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন টোটা। ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পেশাদার অভিনেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।

টোটা রায়চৌধুরীর অভিনয়জীবনে ফেলুদা চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। সৃজিত মুখোপাধ্যায় তাকে ফেলুদা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর দর্শকের মধ্যে তার প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর ‘শ্রীময়ী’ ও ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’র মতো কাজ তার পরিচিতি আরো বাড়িয়ে দেয়। হিন্দি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।

তবে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেছে বেছে কাজ করতে চান টোটা। একই ধরনের চরিত্র বারবার করতে আগ্রহী নন তিনি। ভিন্নধর্মী ও ভালো চরিত্র পেলেই সেখানে কাজ করবেন বলে জানান। ‘ব্ল্যাক ওয়ারেন্ট’-এর মতো কাজও সে কারণেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

বাংলা সিনেমা নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন টোটা। তার মতে, টলিউডের সবচেয়ে বড় শক্তি গল্প বলা। বড় বাজেটের চেয়ে ভালো গল্প ও দক্ষ নির্মাতাদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সত্যজিৎ রায় ও তপন সিনহার মতো নির্মাতারা ভালোবাসা ও সৃষ্টিশীলতার টানেই চলচ্চিত্রে এসেছিলেন। সেই গল্প বলার আগ্রহ ও প্যাশন আবার ফিরিয়ে আনা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

নিজের মেয়ের অভিনয়ে আসার কোনো আগ্রহ নেই বলেও জানিয়েছেন টোটা। মেয়ে প্রযুক্তিগত বিষয়ে পড়াশোনা করছেন এবং বর্তমানে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে উচ্চশিক্ষা করছেন।

নতুন প্রজন্ম নিয়েও আশাবাদী টোটা। তার মতে, এই প্রজন্ম নিজেদের জীবন নিজেদের মতো করে সাজাতে চায়। প্রচলিত সামাজিক নিয়ম মেনে চলার বদলে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে চায় তারা।

আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে টোটা জানান, ২০৩৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি পুরোপুরি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান। এরপর অভিনয়কে পেশা হিসেবে পুরোপুরি ছেড়ে না দিলেও পার্টটাইমভাবে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। বাকি সময় যোগ, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক চর্চায় দিতে চান তিনি। বিশেষ করে ধ্যানযোগ, রাজযোগ ও ভক্তিযোগ নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত