নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কম বাজেটে দল গড়ল আবাহনী

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল ঢাকা আবাহনী। দল গঠন তো দূরের কথা, অনেক ফুটবলারের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনাও করতে পারছিল না ক্লাবটি। তবে ১৯ আগষ্ট নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতেই বদলে গেছে পরিস্থিতি। মাত্র এক রাতেই ২০ জনের বেশি ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করে নতুন মৌসুমের দল গোছানোর পথে এগিয়েছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

গত দুই মৌসুম আবাহনীর কোচের দায়িত্বে থাকা মারুফুল হক এবার দল গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। খেলোয়াড়দের পজিশন ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে তাঁর তৈরি তালিকা অনুযায়ীই শুরু হয় ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনা। মারুফুল হকের মতে, দল গঠনে কোচের সম্পৃক্ততা স্বাভাবিক বিষয়। তিনি বলেন, ‘ফুটবলার রিক্রুটমেন্ট তো কোচের স্বাভাবিক কাজের অংশ। এটি আগে হয়নি, সেটাই বরং অস্বাভাবিকতা। এখানে সংগঠক হয়ে যাওয়ার কিছু নেই।’

গত মৌসুমের বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছে আবাহনী। হাসান মুরাদ, বাবলু, আল আমিন ও মোরসালিনদের মতো ফুটবলাররা এবারও আকাশি-হলুদ জার্সিতে থাকছেন। তবে আর্থিক চাপের কারণে আগের মৌসুমের তুলনায় কিছুটা কম পারিশ্রমিকেই খেলতে রাজি হয়েছেন কয়েকজন।

জাতীয় দলের হয়ে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ফরোয়ার্ড আল আমিনও থাকছেন আবাহনীতেই। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘ক্লাবের ফুটবল নিয়েই পূর্ণ মনোযোগ। গতবারের চেয়ে এবার একটু কমে খেলছি, ক্লাবের স্বার্থ বিবেচনায়।’

এবারের দলবদলে বড় বাজেট নিয়ে এগিয়েছে মোহামেডান। বসুন্ধরা কিংসও তপু ও রাকিবের মতো তারকা ফুটবলারদের ধরে রেখেছে। ফলে আল আমিন কেন অন্য দুই ক্লাবে গেলেন না, সেটিও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘মোহামেডানে আমার পজিশনে খেলোয়াড় রয়েছে। কিংসে আলোচনা হলেও বনিবনা শেষ পর্যন্ত হয়নি।’

তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও আবাহনীর আর্থিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বিদেশি ফুটবলারদের কিছু বকেয়া এখনো রয়েছে। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী সেই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আবারও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এবার তুলনামূলক কম বাজেটেই দল গড়ছে ক্লাবটি।

বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই অবশ্য মৌসুম শুরু করতে চান না কোচ মারুফুল। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় শেষ মুহূর্তে বিদেশি ফুটবলার দলে নেওয়ার চেষ্টা করবে আবাহনী। মারুফুল বলেন, ‘৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। বিদেশি ফুটবলার নেওয়ার ভাবনা রয়েছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।’

এদিকে গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে নিয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আবাহনীর অন্যতম নির্ভরতার এই গোলরক্ষক জানিয়েছেন, কয়েকটি বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সেগুলোর সমাধান হলে দ্রুতই নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি।

দল গঠনে দ্রুত এগোলেও মাঠের প্রস্তুততে কিছুটা পিছিয়ে আবাহনী। ফর্টিজ ও পুলিশ এএফসি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় অনেক আগেই অনুশীলন ও ক্যাম্প শুরু করেছে। অন্যদিকে বেশির ভাগ ক্লাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি।

আগামী ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ ও ২৮ আগস্ট লিগ শুরুর সূচি থাকলেও এত দ্রুত প্রতিযোগিতা শুরু করা নিয়ে রয়েছে সংশয়। তবে আবাহনী দ্রুতই অনুশীলনে নামার পরিকল্পনা করছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত