নারীদের মাদক ব্যবহারজনিত সমস্যা ও মাদকনির্ভরতার চিকিৎসায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী “কমপ্রিহেনসিভ কেয়ার ফর সাবস্ট্যান্স ইউজ ডিসঅর্ডার (ডব্লিউআইএসই)-কোর্স ওয়ান: ক্লিনিক্যাল কেয়ার ফর উইমেন উইথ সাবস্ট্যান্স ইউজ ডিসঅর্ডার্স” শীর্ষক প্রশিক্ষণ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষণটি নারীবান্ধব, প্রমাণভিত্তিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের-এর যৌথ উদ্যোগে উইমেনস ইন্টারভেনশন অব সাবস্ট্যান্স এক্সপোজার (ডব্লিউআইএসই) কর্মসূচির আওতায় ১৮ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের কারিকুলামটি কলোম্ব প্লান-এর উদ্যোগে প্রণীত ও নিবেদিত, যেখানে নারীদের মাদক ব্যবহারজনিত সমস্যা ও মাদকনির্ভরতার ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার বিশেষ চাহিদার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. গোলাম রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. আবু তাইয়েব আবু আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইকবাল মাসুদ, পরিচালক, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এবং মেম্বার সেক্রেটারি, আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
তিন দিনব্যাপী ডব্লিউআইএসই কোর্স ওয়ান-এ নারীদের মাদক ব্যবহারের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক প্রভাব, চিকিৎসায় সম্পৃক্ততা ও চিকিৎসা অব্যাহত রাখা, ট্রমা-সচেতন চিকিৎসা পদ্ধতি, স্ক্রিনিং ও সমন্বিত মূল্যায়ন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা, ক্লিনিক্যাল ইন্টারভেনশন এবং নিরাপদ ও থেরাপিউটিক চিকিৎসা পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিষণ্নতা, উদ্বেগ, পিটিএসডি ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যাসহ সহ-বিদ্যমান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো মোকাবিলার বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে বক্তৃতার পাশাপাশি দলীয় আলোচনা, কেস স্টাডি, রোল প্লে ও ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত ক্লিনিক্যাল জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব চিকিৎসাসেবায় প্রয়োগের সুযোগ পান।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন অভিজ্ঞ রিসোর্স পারসন ইকবাল মাসুদ, মো. তানভীর আহমেদ ও জান্নাতুল ফেরদৌস। তারা ডব্লিউআইএসই কোর্স ওয়ান-এর বিভিন্ন মডিউল ও ব্যবহারিক শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীদের মাদকনির্ভরতার চিকিৎসায় প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি নারীর বিশেষ প্রয়োজন, জীবন-অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে জেন্ডার-রেসপন্সিভ, ট্রমা-সচেতন ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মাদকনির্ভর নারীরা অনেক সময় সামাজিক স্টিগমা, পারিবারিক ও সামাজিক বাধা, সহিংসতা, পূর্ববর্তী ট্রমা এবং উপযুক্ত চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগের কারণে চিকিৎসা গ্রহণ ও তা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন।
ডব্লিউআইএসই কোর্স ওয়ান -এর সফল সমাপ্তি বাংলাদেশে নারীদের মাদকনির্ভরতার চিকিৎসায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের নারীকেন্দ্রিক, সহমর্মিতাপূর্ণ, নিরাপদ ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা প্রদানের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন নারীদের জন্য দুটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। এগুলো হলো মায়ের হাসি মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র এবং আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠান দুটি নারীদের জন্য বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজকরা নারীদের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও জেন্ডার-রেসপন্সিভ মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।