ব্যাটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ বলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায়

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

ম্যাকাইয়ে শান্ত-তানজিদদেরর ব্যাটিংটা হলো একেবারেই ছন্নছাড়া। স্টার্ক-কামিন্সদের পেস তোপে ৬৪ রানেই অলআউট। সেখানে দলীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান এলো সবার শেষে ব্যাট করতে নামা শরিফুল ইসলামের ব্যাটে। বাংলাদেশকে সর্বনিম্ন সংগ্রহের লজ্জা থেকে এড়িয়ে এবার বল হাতেও প্রতিরোধের দায়িত্ব তুলে নিলেন শরিফুল। নিজের প্রথম ওভারেই ৪ বলের মধ্যে নেন ২ উইকেট।

এদিকে জেক ওয়েদারল্ডের পরিবর্তে ম্যাকাই টেস্টে দলে ফিরেই একাদশে নাম লেখানো ম্যাট রেনশকে দলীয় ২২ রানে মাথাতেই ফেরান তাসকিন আহমেদ। পরে জোড়া শিকার শরিফুলের। এতে প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে ১০ ওভারে ৩ উইকেটে অজিদের সংগ্রহ ৫০ রান। লিডে যেতে তাদের আর প্রয়োজন কেবল ১৪ রান।

প্রথম সেশনটা ছিল শান্তদের উইকেটের মিছিল আর স্টার্কময়

ম্যাকাইতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমানের বিদায়ে দুঃস্বপ্নের সূচনা হয় বাংলাদেশের। দলীয় ৯ রান হতেই স্টার্কের তোপে শূন্য রানে ফেরেন তানজিদ-শান্তরাও। এরপর মুমিনুল ৯ রানে আউট ও লিটনও খাতা খুলতে ব্যর্থ হলে স্রেফ ১২ রানেই ৫ উইকেট হারায় সফরকারীরা। নিজের প্রথম ২২ বলেই এই শুরু পাঁচ উইকেট তুলেছেন অজিদের তারকা পেসার স্টার্ক। পরে নিয়েছেন আরও একটি উইকেট।

শুরুর এই বিপর্যয় কাটিয়ে মুশফিক (৫) ও মিরাজ সামান্য প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেই জুটি রানের হিসেবে টিকেনি বেশিক্ষণ। স্কোরবোর্ডে ২১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে দল যখন সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ড এড়ানোর লড়াইয়ে নামে, তখন আর কোনো উইকেট না হারিয়ে প্রথম সেশন শেষে ২৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় কেবল ৩৫ রান।

৬৪ রানে বাংলাদেশ অলআউট, ব্যাটিংয়ে বিরল কীর্তির পর বোলিংয়েও ছন্দ শরিফুলের 

বিরতির পর মিরাজ (১১) ফিরলে ফের শুরু হয় উইকেটের মিছিল, যার ফলে ৩৯ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ড গড়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। তবে শেষ উইকেটে তাইজুল ও শরিফুলের ২৫ রানের জুটিতে সেই শঙ্কা কাটিয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় দল। ইনিংসে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক, আর কামিন্স নেন ৩ উইকেট। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ রান আসে ১১ নম্বরে নামা শরিফুলের ব্যাট থেকে, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ১১ নম্বরে নেমে কোনো ব্যাটারের প্রথম সর্বোচ্চ রানের বিরল রেকর্ড।

এদিকে দ্রুতই লিডে যাওয়ার সহজ রাস্তা পেয়ে ব্যাট করতে নামলেও অজিদের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। ডারউইন টেস্টে জেক ওয়েদারল্ডের বিবর্ণ পারফর্মের সুবাদের ওপেনিংয়ের ব্যর্থটা কাটাতে রেনশকে দলে ফেরায় স্বাগতিকরা। তবে তাতেও খুব একটা কাজে দিল না। তাসকিনের প্রথম শিকার হয়ে ফিরলেন কেবল ৮ রান করেই। 

তবে শুরু থেকেই ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করতে থাকে আরেক ওপেনার হেড। আগের টেস্টের দুই ইনিংসেই হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হইয়ে ফেরা এই ব্যাটার খুঁজে ফিরচ্ছিলেন ছন্দে ফেরার রাস্তা। তবে সেখানে এবার কাঁটা হইয়ে এলেন শরিফুল। এবারও ফিরলেন বোল্ড হইয়েই। ২৭ বলে ২২ রান করে। অষ্টম ওভারে এসে ইনিংসে প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই উইকেট পেয়ে যান শরিফুল। আর একই ওভারে দুই বল বাদেই ফেরান লাবুশেনকেও (৪)। ২২ গজে এই মুহূর্তে অপরাজিত আছে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। ডারউইনে অজিদের হয়ে কেবল এই দুই ব্যাটারই ছিলেন ছন্দে। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে):

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৬৪/১০ (৩৪ ওভার) (শরিফুল ১৪, তাইজুল ১১*, মিরাজ ১১, হাসান ১০; স্টার্ক ৬/১২, কামিন্স ৩/২৫)

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস*: ৫০/৩ (১০ ওভার) (হেড ২২, রেনশ ৮, স্মিথ ৬* শরিফুল ২/৬)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত