১৮ উইকেটের দিন: স্টার্ককে টক্কর দিয়ে অজিদের ভোগাল শরীফুল

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০০ পিএম

সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে এমন কামব্যাক দিতেই হতো অজিদের। মিচেল স্টার্কের পেস তোপে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনের শুরতেই এলো তেমন কিছুই। তবে শুরুটা যেখন করলেন স্টার্ক সেখানে দিনের শেষটা একই সুতোয় টানলেন শরীফুল ইসলাম। অজিদের বোলিংয়ে ফেরার দিনে ব্যাটিংয়ে স্বস্তি দিলেন না এই বাঁহাতি পেসার।

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিংয়ের চরম ব্যর্থতায় স্রেফ ৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সেখানে দিনের বাকি সময়ে ব্যাট করে ৪০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে অজিদের সংগ্রহ ১৬৫ রান। এতে ১০১ রানে এগিয়ে আছে তারা।

বাংলাদেশকে স্বল্প রানে আটকে দ্রুতই লিডে যাওয়ার সহজ রাস্তা পেয়ে ব্যাট করতে নামলেও অজিদের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। ডারউইন টেস্টে জেক ওয়েদারল্ডের বিবর্ণ পারফর্মের সুবাদের ওপেনিংয়ের ব্যর্থটা কাটাতে রেনশকে দলে ফেরায় স্বাগতিকরা। তবে তাতেও খুব একটা কাজে দিল না। তাসকিনের প্রথম শিকার হয়ে ফিরলেন কেবল ৮ রান করেই। 

এরপরই শুরু শরীফুল-ম্যাজিক। কিছুটা ওয়ানডে মেজাজে খেলে ডারউইনে হাসানের জোড়া বোল্ডের শিকারের স্মৃতি যেন ভোলার চেষ্টায় ছিলেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। তবে তা হলো কই। এবার সেই জুজুতে নাম লেখালেন শরীফুল। এবারও ফিরলেন বোল্ড হয়েই। ২৭ বলে ২২ রান করে। অষ্টম ওভারে এসে ইনিংসে প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই উইকেট পেয়ে যান শরিফুল। আর একই ওভারে দুই বল বাদেই ফেরান লাবুশেনকেও (৪)। দলীয় সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৪১ রান। 

তবে ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে সেই চাপ ভালোভাবেই সামলে নেন স্টিভ স্মিথ। যাচ্ছিলেন বড় জুটির পথেই। তবে ২৬তম ওভারে এসে সেই ডেডলক ভাঙলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যা দুই দল মিলিয়ে দিনের একমাত্র স্পিনারের উইকেট। স্মিথ ৪১ রানে ফিরলে থামে তাদের ৭৭ রানের দলীয় সর্বোচ্চ জুটি। 

এতেই লিড পেরিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল স্বাগতিকরা। একপ্রান্তে ফিফটি (৫১*) তুলে দিনের বাকি সময় টিকে থাকলেন গ্রিন। তবে শরীফুলের পেস তোপে অন্য প্রান্তে চলল ব্যাটারের যাওয়া-আসার মিছিল। শঙ্কা জেগেছিল দিনের খেলা শেষেই অজিদের অলআউট হবার। তবে গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়ে সেই শঙ্কা দীর্ঘায়িত করলেন টেল এন্ডার নাথান লায়ন। লিড এক শ পার করে শেষ করলেন দিনের খেলা। 

১১ ওভারে ৩৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন শরীফুল। যা লাল বলের এলিট এই ফরম্যাটে এই বাঁহাতি পেসারের প্রথমবার ফাইফার ছাড়িয়ে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। 

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ে প্রদর্শনীতে একে একে নাম লেখায় বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ১২ রানেই হারায় ৫ উইকেট। যার মধ্যে চারজনই ফেরেন শূন্য রানে (সাদমান, তানজিদ, শান্ত, লিটন)। স্কোরবোর্ডে ৩৯ রান উঠতেই সাজঘরে পাড়ি জমায় নবম ব্যাটারও। তাই তো টেস্টের সর্বনিম্ন সংগ্রহের নতুন লজ্জার রেকর্ড উঁকি দিচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করে দুই টেল এন্ডার তাইজুল ও শরীফুল। তারাই গড়ে ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি, আর সবার শেষে ব্যাট করতে নেমে শরীফুল করেন দলীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো দলের ১১ নম্বর ব্যাটারের দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংসের প্রথম ঘটনা।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে):

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৬৪/১০ (৩৪ ওভার) (শরিফুল ১৪, তাইজুল ১১*, মিরাজ ১১, হাসান ১০; স্টার্ক ৬/১২, কামিন্স ৩/২৫)

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস*: ১৬৫/৮ (৪০ ওভার) (হেড ২২, রেনশ ৮, স্মিথ ৪২, গ্রিন ৫১*, লায়ন ১০*; শরিফুল ৬/৩৫, তাসকিন ১/৪১, মিরাজ ১/৪)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত