নিম্নআয়ের মানুষ, কৃষক, শিক্ষার্থী, পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে খোলা নো-ফ্রিল অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে দেশে এসব হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ১১৯টি। এসব হিসাবে জমার পরিমাণ ৯ হাজার ১০ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নো-ফ্রিল হিসাবের জুন ২০২৬ প্রান্তিকের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ব্যাংকিং, পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুদের হিসাব বাদ দিলে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৭টি। এসব হিসাবে মোট জমা রয়েছে ৫ হাজার ৪৯০ কোটি ৯২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এসব হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গ্রামাঞ্চলে উন্মুক্ত ঋণ বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা ও নো-ফ্রিল হিসাব সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা এসব হিসাবের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খোলা ১০ টাকার হিসাব। মোট হিসাবের ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এ ধরনের হিসাব। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কৃষকদের হিসাব। মোট নো-ফ্রিল হিসাবের ৩৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ কৃষকদের।
প্রবাসী আয় বিতরণেও নো-ফ্রিল হিসাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জুন প্রান্তিক শেষে এসব হিসাবের মাধ্যমে দেশে আসা বৈদেশিক প্রবাসী আয়ের পুঞ্জীভূত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের নতুন নির্দেশনার আওতায় জুন প্রান্তিকে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯৪০টি নতুন শিক্ষার্থী ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়েছে। সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগের ফলে এ ধরনের হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থী ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার নীতিও এর বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।
জুন প্রান্তিক শেষে পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুদের হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬০৭টি। ১৮টি ব্যাংক ৪৯টি এনজিওর সহযোগিতায় এসব হিসাব খুলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নো-ফ্রিল হিসাব আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এবং ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।