রংপুরে ৪ খুন 

জবানবন্দি দিলেন সীমান্ত, আসামিদের সঙ্গে মিলেছে বর্ণনা

সীমান্তের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে আসা তথ্যের মিল রয়েছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের রাতে সীমান্তের বাড়িতে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দুই পক্ষের বক্তব্যেই এসেছে।

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার মামলায় সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত চন্দ্র দাস নামে এক যুবক। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দুই প্রধান আসামির সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সর্ম্পক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সীমান্তের জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সীমান্ত তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার বক্তব্য রেকর্ড করেন। সীমান্তের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে আসা তথ্যের মিল রয়েছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের রাতে সীমান্তের বাড়িতে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দুই পক্ষের বক্তব্যেই এসেছে।

অভিযুক্ত সীমান্ত চন্দ্র দাস রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে, পেশায় কাপড়ের দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধি। তিনি গ্রেপ্তার হওয়া মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু। 

মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তারের পর ২৪ আগস্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই দুই তরুণ সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টের প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, সোমবার সকালে ডোপ টেস্টসংক্রান্ত ডকেট তিনি পেয়েছেন। এরই মধ্যে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর কথা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ও বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে-এমন আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি তদন্তের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করার চেষ্টা করা হবে। হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। 

তার ভাষ্য, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করে মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।

২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় পরদিন রবিবার (২৩ আগস্ট) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন রাতে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের আদেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত