নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বলেছেন, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধানের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় একটি আয়োজনে তিনি সমর্থন করেন না। সূত্র পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন।
আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত আগামী শনিবার ম্যানহাটনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, 'আমি এই সমাবেশকে সমর্থন করি না। তবে এটি একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।'
নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র মামদানি বলেন, 'আমার পরিবার আমাকে যে ভারতের ধারণার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল এবং আমি যে ভারতকে খুব ভালোভাবে চিনে বড় হয়েছি, সেটি ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র—যেখানে ভারতের প্রতিটি মানুষের অধিকার ও মর্যাদার স্বীকৃতি ছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'একটি বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলনের উত্থান দেখতে পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।'
অনুষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে ২৯ আগস্টের আয়োজনটিকে 'ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের একত্রিত করার কথা বলা হয়েছে।
'আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ' নামের সংগঠনটি অনুষ্ঠানটির আয়োজক। তাদের দাবি, বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন এ আয়োজনকে সমর্থন করছে। পারস্পরিক ঐতিহ্য ও আন্তধর্মীয় ঐক্য তুলে ধরাই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য। তবে মোহন ভাগবতের উপস্থিতি এবং আরএসএসের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে নিউইয়র্কের বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংগঠন এর সমালোচনা করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী হিন্দু সংগঠন আরএসএস। সংগঠনটি মে মাসে জানিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার যে ধারণা রয়েছে, তা দূর করতে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সফরের আয়োজন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, 'দশকের পর দশক ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার ঘটনায় আরএসএস জড়িত ছিল।'
তবে আরএসএস অসহিষ্ণুতার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের একটি 'হিন্দুকেন্দ্রিক সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন' হিসেবে বর্ণনা করে। সংগঠনটির দাবি, হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করাসহ 'জাতিকে গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়া' তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে। তারা ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলিমদের মালিকানাধীন স্থাপনা ভেঙে ফেলা, কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলোকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সরকারের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুতায়ন কর্মসূচিসহ তাদের বিভিন্ন নীতি সব সম্প্রদায়ের মানুষেরই উপকার করছে।