বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় পরিবর্তনের দাবিতে এবার তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন বর্তমান ও সাবেক নামী ফুটবলাররা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অসন্তোষের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে স্লোগান তুলেছে তারকাদের একটি প্রভাবশালী দল। বিশ্বকাপে মূল মূল্যবোধ থেকে ফিফা নেতৃত্ব সরে গেছে অভিযোগ করে সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।
এই প্রতিবাদটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এর পেছনে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের অনেকেই অতীতে ফিফার বিভিন্ন শুভেচ্ছা দূত বা ‘ফিফা লেজেন্ডস’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই দলের অন্যতম প্রধান মুখ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনালের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিকায়েল সিলভেস্ত্রে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিলভেস্ত্রে নিজে ফিফার ১৬ সদস্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘প্লেয়ার্স ভয়েস প্যানেল’-এরও সদস্য, যা মূলত ফুটবলে বর্ণবাদ দূর করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে থাকে। ভেতরের এই মানুষটিই যখন ফিফা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তখন তা সংস্থাকে বড় চাপের মুখে ফেলে দেয়।
সিলভেস্ত্রের পাশাপাশি এই প্রতিবাদী বিবৃতিতে শামিল হয়েছেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার লুসি ব্রোঞ্জ, সাবেক গোলরক্ষক ডেভিড জেমস এবং ফ্রান্সের ১৯৯৭-৯৮ বিশ্বকাপ জয়ী মিডফিল্ডার এমানুয়েল পেতিত। বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রি করার ফিফার বিতর্কিত উদ্যোগের পর থেকেই মূলত এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফুটবলাররা জানান, ‘আমরা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের ঠিক একই উদ্বেগের অংশীদার। তাদের মতো আমরাও দেখেছি যে ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে আমাদের প্রিয় খেলাটি এর মূল মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে গেছে। দীর্ঘকাল ধরে আমরা দেখেছি যে খেলোয়াড়দের কোনো পরামর্শ বা বিবেচনা ছাড়াই এবং খেলাটিকে টিকিয়ে রাখা ভক্তদের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করেই বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, ‘পরিবর্তন জরুরি। ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের নিজস্ব স্বার্থ এবং ফুটবলের জন্য কোনটি সেরা—তা আলাদা করার ক্ষমতাকে ঝাপসা করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নীরব থাকাকে অসম্ভব করে তুলেছে। যথেষ্ট হয়েছে। মাঠের ঘাস স্পর্শ করা খেলোয়াড় এবং গ্যালারিতে বসা ভক্ত উভয়েরই ফুটবলের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রকৃত মতামত দেওয়ার অধিকার রয়েছে।’
তবে চলমান এই সমালোচনার বিপরীতে ভিন্ন সুরও শোনা গেছে। ক্যামেরুন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এবং রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও চেলসির সাবেক স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতো সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনোর পক্ষ নিয়েছেন।
ইনফান্তিনোর সমর্থনে ইতো বলেন, ‘আমি মনে করি না যে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কোনো ভুল করেছেন। এই সবকিছুর টাইমিংয়ের কারণ হলো সামনে নির্বাচন আসছে, যেখানে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই সব ঘটনা কেবল নির্বাচনের জন্যই ঘটছে, এছাড়া আর কিছুই নয়। আগামী মার্চে প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর আমরা ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্টটি পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার শক্তি পাব।’
বিশ্বকাপের তিন দলের সঙ্গে ভারতের কঠিন পরীক্ষা