দখলে হারিয়ে যাচ্ছে জিয়া খাল

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

একসময় যে খালের পানিতে সেচ হতো অন্তত ১০টি বিলের জমি, চলত ছোট-বড় নৌকা, জেলেরা ধরতেন মাছ—সেই জিয়া খাল এখন অনেক জায়গায় সরু ড্রেনের মতো। কোথাও পাকা স্থাপনা, কোথাও বসতি, কোথাও আবার দখলের চাপে মুছে যাচ্ছে খালের চিহ্নই। প্রায় পাঁচ দশকের ব্যবধানে চলনবিল অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ হারিয়েছে স্বাভাবিক প্রবাহ। ফলে কৃষকরা এখন সেচের জন্য ক্রমেই বেশি নির্ভর করছেন ভূগর্ভস্থ পানির ওপর।

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের আত্রাই নদীর চাঁচকৈড় মৎস্যজীবীপাড়া থেকে শুরু হয়ে খোয়ারপাড়া ও ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ পর্যন্ত বিস্তৃত খালটির প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ ১৯৭৭ সালে খনন করা হয়। স্থানীয়ভাবে এটি ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। পরে ভিন্ন নামে এ জলধারা পূর্বদিকে কচুগাড়ি, তালবাড়িয়া ও চাটমোহরের ছাইকোলা হয়ে সিরাজগঞ্জের হুসাগর নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম ও দক্ষিণমুখী কয়েকটি শাখা চলনালী, পাঁচশিশা, নাড়িবাড়ি ও সোনাবাজু হয়ে তুলশীগঙ্গা নদীর সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করেছিল।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, খননের সময় খালটির প্রস্থ কোথাও ৪৩ ফুট, কোথাও ৩৫ ফুটের মতো ছিল। তখন এর পানিপ্রবাহ ছিল স্বাভাবিক। খালের জল ধরে রাখা ও বিভিন্ন বিলে পৌঁছে যাওয়ার কারণে কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় থেকেই বহু এলাকায় তিন ফসলি চাষের প্রসার ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত