বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে সেতু নির্মাণ কাজ দেড় বছর আগে সম্পন্ন হয়। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি আকেজ হয়ে পড়ে রয়েছে।
সেই সংযোগ সড়ক নির্মাণকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। বিশেষ করে সড়কের জমি অধিগ্রহণের আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের তোড়জোড় করছেন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের জন্য তাদের জমি প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত যথাযথ ভাবে জমি অধিগ্রহন ক্ষতিপূরণ প্রদান কিংবা আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এতে জমির মালিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন বিশ^ ব্যাংকের অর্থয়নে ৬ কোটি ৮৩ লক্ষ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুটি সাধারন মানুষের কোন কাজে লাগছে না।
ব্রিজের দুইপাশে রত্নপুর সড়ক ও শোলক বাজারের সড়কের জমির মালিক আব্দুর রব হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন ওই ব্রীজটির দু পশে জমির মালিক তিনি ব্রীজটি নির্মাণের সময় তার জমির উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে দেবেন না বলে জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেছেন সরকারিভাবে জমি অধিগ্রহণ করে নেবেন। তবে ব্রজিটি নির্মাণ হওয়ার পর রুপ বদলে যায় প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের।
জমির মালিকদের কোনো ক্ষতিপূরন দিতে রাজি নয় উল্টো তাদের মামলা দেয়ার হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একজন প্রকৌশলী কিভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে পারেন? নিয়ম অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিবর্তে জমি ব্যবহারের পথ তৈরি করা হলে তা সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
স্থানীয়রা বলছেন, উন্নয়নের নামে কারও জমি দখল করার সুযোগ নেই। সরকারি প্রকল্প হলেও জমির মালিকের অধিকার ও আইনানুগ প্রক্রিয়া মানতেই হবে। এ ঘটনায় আরও প্রশ্ন উঠেছে, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি কেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এখন সেই ঘাটতির দায় কি সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? স্থানীয়দের দাবি,সংযোগ সড়ক নির্মাণের আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং অধিগ্রহণসংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ্যে যাচাই করা হোক। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ ছাড়া কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কাজ শুরু না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত না করলে পরবর্তীতে জমির মালিকদের সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। তাই জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তে দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আভিযুক্ত সুব্রত রায় বলেন সরকারি খাস জমির উপর রাস্তা নির্মাণ করা হবে, তার বিরুদ্ধে করা আভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।