সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের রবিউলের মরদেহ দাফন

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের রবিউলের মরদেহ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা ভট্টপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে দেশে পৌঁছায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়াদের মধ্যে রবিউল ইসলামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায়। বাকি সাতজন নওগাঁর আত্রাই এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার রাতেই প্রশাসনের সহায়তায় রবিউলের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছায়।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে রাত থেকেই স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন।

স্বজনরা জানান, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রবিউল। সেখানে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় লুকিয়ে কাজ করতে হয়েছে তাকে। প্রায় তিন বছর পর তিনি বৈধ কাগজপত্র পান। গত দেড় বছরে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও পরিবারের ঋণ এখনো পুরোপুরি শোধ হয়নি। ঋণ পরিশোধ করে গ্রামে বাবা-মায়ের জন্য বাড়ি তৈরি শেষে কিছুদিন পর দেশে ফেরার কথা ছিল তার। তবে দেশে ফিরেছে তার নিথর
দেহে। নিহত রবিউল ইসলাম হৃদয় মহিষডাঙ্গা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজন প্রবাসীর মৃত্যু হয়। তবে প্রথম পর্যায়ে রবিউলের মরদেহ আসলেও বাকি দুজনের মরদেহ এখনো আসেনি।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই রবিউলের মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছায়। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। সৌদি আরবে নিহত নলডাঙ্গার আরও দুজনের মরদেহ শনাক্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত