‘শৃঙ্খলাহীন’ পদোন্নতিতে পুলিশে অস্বস্তি

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৬ এএম

আলি আকবর খান। ১৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর যোগ দেন পুলিশে। পিএসসির সিরিয়াল ৭। দীর্ঘদিন পুলিশ সুপার পদেই ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাননি পদোন্নতি-পদায়ন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডিআইজি হন। দায়িত্ব পালন করেন পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগে। অথচ তাকে ডিঙিয়ে একই ব্যাচ ও ১৭তম ব্যাচের একাধিক কর্মকর্তা হয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি। পদোন্নতি না পেয়ে তিনি ক্ষোভ ও অভিমানে চলে যান অবসরে। একই ঘটনা ঘটে ১৫ ব্যাচের দুই নম্বর সিরিয়ালে থাকা মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকীর বেলায়ও। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ছিলেন এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তার সিরিয়ালের আগে ও পরের কর্তাদের পদোন্নতি হলেও তিনি বঞ্চিত হওয়ায় চলে যান অবসরে।

এই দুই কর্মকর্তার মতোই পুলিশে চলছে পুরনো ধাঁচের পদোন্নতি। এতে অনেক কর্মকর্তার মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, হতাশা। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যাদের ‘রাজনৈতিক যোগাযোগ ও তদবির ভালো’ তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন। এর বাইরে যোগ্যতা থাকার পরেও অনেকে পাচ্ছেন না পদোন্নতি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে পদোন্নতি ও পদায়ন হয়েছে এখনো একই কায়দায় তা হচ্ছে। একজনকে ডিঙ্গিয়ে আরেকজন চলে যাচ্ছেন উচ্চপদে। এক ব্যাচ রেখে পরের ব্যাচের কর্মকর্তাদের দেওয়া হচ্ছে পদোন্নতি। ফলে জুনিয়রদের অধীনে দায়িত্বপালন করতে হচ্ছে সিনিয়রদের।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যন্ত পদোন্নতি হয় বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে। ডিপিসির প্রধান হন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হয় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে। পদাধিকার বলে এসএসবির প্রধান হন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আর নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের (কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর) পদোন্নতি হয় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। পদাধিকার বলে প্রধান হন পুলিশের মহাপরিদর্শক।

পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পিএসসির মেধাক্রম, কর্মদক্ষতা, আচরণ, বিভাগীয় মামলা, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ এসব বিষয় বিবেচনা করা হয়। এর বাইরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশ ক্যাডারে মঞ্জুরিকৃত পদ আছে এএসপি ১ হাজার ২২২টি, অতিরিক্ত এসপি ১ হাজার ১টি, এসপি ৫৯৩টি, অতিরিক্ত ডিআইজি ২৪৬টি, ডিআইজি ১১৭টি ও অতিরিক্ত আইজিপি ২২টি। বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি গ্রেড-১ আছেন দুজন, অতিরিক্ত আইজিপি ২১ জন, ডিআইজি ৭৮ জন, সুপারনিউমারারি ডিআইজি দুজন, অতিরিক্ত ডিআইজি ১৬৩ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) ১০ জন, সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ১০৩ জন, এসপি ৪৬২ জন, সুপারনিউমারারি এসপি ৯২ জন, অতিরিক্ত এসপি ৮৭১ জন, এএসপি ৫৫৬ জন, শিক্ষানবিশ এএসপি ২৯০ জন, ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ৪ হাজার ৭২৯ জন, ইন্সপেক্টর (টিটি) ৯৮৪ জন, ইন্সপেক্টর (সশস্ত্র) ৮৩৬ জন, এসআই (নিরস্ত্র) ১৯ হাজার ২০৪ জন, সার্জেন্ট (শিক্ষানবিশ) ৮৫ জন, সার্জেন্ট ২ হাজার ২৫ জন, টিএসআই ৪৪৬ জন, এসআই (সশস্ত্র) ২০ হাজার ৬৩৮ জন, এটিএসআই ২ হাজার জন, এএসআই (সশস্ত্র) ৬ হাজার ৮৫৭ জন, নায়েক ৭ হাজার ২০ জন ও কনস্টেবল ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ জন। 

সম্প্রতি ২৯ ব্যাচের সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার রেজাউল করিম পদোন্নতি বিষয়ে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার রোষানলে পড়েন। অথচ ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার ব্যাচের কয়েকজন কর্মকতাকে ডিঙ্গিয়ে কিছুদিন আগে পদোন্নতি পান। তিনি তার দপ্তরে ডেকে নিয়ে বকাঝকা করলে এসপি তার ফেসবুক পোস্টটি ডিলিট করে দেন। তারপরও তাকে গত মঙ্গলবার খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে তিনি কর্মরত ছিলেন এসবিতে।

সংযুক্তির পর ওই এসপি আবেগঘন এক পোস্টে লেখেন, “আমি সংযুক্ত’, আমার কাজ আর বাংলাদেশ পুলিশের প্রয়োজন নেই। পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কেন ভালো কাজ করতে অফিসাররা উৎসাহিত হন না, তার আরেকটা উদাহরণ তৈরি হলো আমার পোস্টিং দিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ, বিগত ১৫ বছরের চাকরিতে ৯ বছর ছিলাম ডাম্পিং পোস্টিংয়ে, কিছুই মনে করিনি, এখনো মনে করব না। শুধু এটুকুই বলব, এই ডিপার্টমেন্ট ‘তেলবাজদের জন্যই ফিট’। নিয়ম মেনে কাজ করা অফিসারের কদর এই ডিপার্টমেন্ট করতে পারবে না। শতভাগ সততা, স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করেও যদি এই রেজাল্ট পেতে হয়, তাহলে আর আমার কিচ্ছু বলার নেই। অন্যায়কে মেনে নেওয়ার চেয়ে সংযুক্ত থাকাই শ্রেয়। আমার আর বোধ হয় চাকরি করা হলো না। ভালো থাকবেন সবাই।” তার এই পোস্ট নিয়ে তোলপাড় চলছে পুলিশে।

পদোন্নতিতে বিস্তর অভিযোগ : সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। একজনকে ডিঙ্গিয়ে আরেকজন পদোন্নতি বাগিয়ে নিচ্ছেন। তদবিরের পাশাপাশি অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। বিসিএস সপ্তম ব্যাচে পাঁচজন কর্মকর্তার মধ্যে বেনজীর আহমেদ ও মইনুর রহমান চৌধূরী অন্যদের ডিঙ্গিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হয়ে যান। অথচ একই ব্যাচের মুহাম্মদ মাহবুব মহসীন ও হেলাল উদ্দিন বদরী ডিআইজি থেকেই অবসরে যান। অষ্টম ব্যাচেও একই অবস্থা। এই ব্যাচের কর্মকর্তা মতিউর রহমান এসপি পদে থেকেই অবসরে গেছেন। আরেকজন হাবিবুর রহমান অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে অবসরে যান। পুলিশের সাবেক এই দুই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পদোন্নতি পেতে নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পিএসসির মেধা তালিকায় হাবিবুর রহমানের স্থান এক নম্বরে, অথচ তার পদোন্নতি হয়নি। এই ব্যাচের আরেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহেল বাকী ডিআইজি হিসেবে অবসরে গেছেন।

১২তম ব্যাচেও একই দশা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ব্যাচের অনেকেরই পদোন্নতি হয়। ১৫তম ব্যাচের সদস্য ৬৬ জন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান পিএসসির তালিকার ১, ৩, ৫, ৮, ৯, ১১, ১৬, ২৪, ২৫, ২৮, ৪৮, ৫২, ৫৩, ৫৫, ৫৮, ৫৯, ৬৪ ও ৬৫ ক্রমিকের ব্যক্তিরা। আর অন্তর্বর্তী ও বিএনপি সরকারের আমলে এই ব্যাচে পদোন্নতি পান পিএসসির তালিকার ৪, ৬, ১০, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৬, ২৯, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৩৮, ৪০, ৪৪, ৫০, ৫১, ৬১ ও ৬৩ ক্রমিকের ব্যক্তিরা।

বাকি যারা পদোন্নতি পাননি তাদের মধ্যে কয়েকজন হতাশা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক তদবিরসহ ‘অন্য কারণে’ জোর না থাকায় পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের চাকরিও মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার যা করেছে বর্তমান সরকারও তাই করছে। এখনো পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন ১৫তম ব্যাচের ১৫ জন। ঠিক ১৭ ব্যাচেও ঘটেছে একই কাণ্ড। এই ব্যাচে কর্মকর্তা ৪৯ জন। পিএসসির তালিকা ধরে এখানে হয়নি পদোন্নতি। ১৬ বছর যেভাবে পদোন্নতি হয়েছে এবারও একইভাবে হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর অতিরিক্ত আইজিপি হন সিরিয়াল নম্বর ৩, ১৩, ১৬, ১৭, ২১, ২৩, ২৬, ৪৩ ও ৪৫। বাকিরা কবে হবেন কেউ জানেন না।

১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা ৫৫ জন। এখনো অনেকেই পাননি পদোন্নতি। তা ছাড়া ২০তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১০৬ জন, ২১তম ব্যাচে কর্মকর্তা ৪৯ জন, ২২তম ব্যাচে কর্মকর্তা ৪২ জন, ২৪তম ব্যাচে কর্মকর্তা ২০১ জন, ২৫তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১৯২ জন, ২৭তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১৩৭ জন, ২৮তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১৮০ জন, ২৯তম ব্যাচে কর্মকর্তা ৩৫ জন, ৩০তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১৮৪ জন, ৩১তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১৮৩ জন, ৩৩তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১৫৫ জন, ৩৪তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১৪৭ জন, ৩৫তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১১৪ জন, ৩৬তম ব্যাচে কর্মকর্তা ১১৩ জন, ৩৭তম ব্যাচে কর্মকর্তা ৯৭ জন, ৩৮তম ব্যাচে কর্মকর্তা আছেন ৯৭ জন। অনেকেই পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিসিএস ১৫ ও ১৭ ব্যাচের দুই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, যারা তাদের স্যার বলতেন, তারা পদোন্নতি পেয়ে ওপরে চলে গেছেন। এখন আর সেই জুনিয়ররা তাদের স্যার বলেন না। তারাও তাদেরকে তুমি বলে সম্বোধন করেন না। কোনো সম্বোধন ছাড়াই দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই কর্মকর্তার অভিযোগ, তদবির করার লোক না থাকায় হয়তো তাদের পদোন্নতি হচ্ছে না। প্রতিটি সরকারের আমলেই তদবিরের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি হয়। এখনো নিয়মের বাইরে গিয়ে আগের মতোই পদোন্নতি হচ্ছে। পিএসসির মেধাক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে না। অথচ এই তালিকা ধরেই পদোন্নতি হওয়ার কথা। প্রতিটি ব্যাচেই একইভাবে পদন্নোতি দেওয়া হচ্ছে। আবার পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুপারনিউমারারি এসপিসহ অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, জুনিয়রদের আগে পদায়ন দেওয়া হলে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড বলে কিছু থাকবে না। ২০২২ সালে ২৮তম ব্যাচে ২৫ জন কর্মকর্তা এসপি পদে পদোন্নতি পান। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে একই ব্যাচের আরও ১০৩ জনসহ অন্যান্য ব্যাচ মিলিয়ে ১৫০ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি এসপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে শূন্য পদের বিপরীতে ৮০ জন কর্মকর্তার নিয়মিত পদায়ন হলেও এখনো ওই ব্যাচের ৬০ জন কর্মকর্তা একই পদে রয়ে গেছেন। তারা নিয়মিত পদায়নের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এসপিদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ডিআইজিদের বেলায়ও একই অবস্থা।

একজন সুপারনিউমারারি এসপি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে সুপারনিউমারারি এসপি পদে আছি। আমাদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা স্বাভাবিক পদায়নের অপেক্ষায় আছি। এরপরও যদি আমাদের বাদ রেখে জুনিয়রদের পদোন্নতি দিয়ে রেগুলার এসপি করা হয়, তাহলে চাকরির স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৩০তম ব্যাচের পদোন্নতির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে শূন্য পদগুলোয় ২৮ ও ২৯তম ব্যাচের সুপারনিউমারারিদের আগে সমন্বয় করতে হবে। তারপর বিবেচনা করতে হবে পদোন্নতির বিষয়টি। সে ক্ষেত্রে প্রথমে সিনিয়রিটি বিবেচনা করলে আগে ২৮ ও ২৯-এর পর ৩০তম ব্যাচ আসবে। শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি হওয়া উচিত। তাহলেই বাহিনীতে শৃঙ্খলা থাকবে।’

অভিযোগ রয়েছে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ প্রশাসনে কাক্সিক্ষত সংস্কার হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাধাগ্রস্ত হয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। বর্তমান সরকারের আমলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। কাজের মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়েও ভেতরে-বাইরে আছে নানা প্রশ্ন। প্রকৃত মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে নতুন করে তৈরি হচ্ছে বিতর্ক। এসব কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বাহিনীটি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশে একশ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাকে খুশি তাকে ওসি-এসপি পদে পদায়নের পাশাপাশি পদোন্নতি করা হচ্ছে। যোগ্যরা বাদ পড়ছেন। অনেকে নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে কয়েক ধাপে পদোন্নতি ও সুবিধাজনক পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন। বাস্তবে তারা কোন প্রেক্ষাপটে বঞ্চিত ছিলেন এবং বর্তমানে তাদের পারফরম্যান্স কেমন তার কোনো সঠিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে না। এ কারণে যোগ্য কর্মকর্তারা পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন থেকে পিছিয়ে পড়ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত