চলতি বছরের সেরা ১২ চলচ্চিত্র

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বিশ্বচলচ্চিত্রের সেরা ১২টি সিনেমা বাছাই করেছেন বিবিসির চলচ্চিত্র সমালোচক ক্যারিন জেমস ও নিকোলাস বারবার। সম্প্রতি বিবিসিতে প্রকাশিত সেই বিশেষ প্রতিবেদনটিই দেশ রূপান্তরের ‘কীর্তনখোলা’র পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো

দ্য ইনভাইট

বয়স্কদের জন্য নির্মিত মার্কিন কমেডি ধারার এই ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সেথ রোজেন ও অলিভিয়া ওয়াইল্ড (পরিচালক নিজেও)। এ ছাড়া ছবিতে আরও রয়েছেন পেনেলোপ ক্রুজ ও এডওয়ার্ড নর্টন। একটিমাত্র অ্যাপার্টমেন্ট এবং এক সন্ধ্যার ঘটনা নিয়ে আবর্তিত এই গল্পে ঝগড়া করে বেড়ানো হোস্ট ও অতিথিদের বৈপরীত্য এক হাস্যকর প্রহসনের জন্ম দেয়। তবে চিত্রনাট্যটি চরিত্রগুলোর ভেতরের ক্ষতকে চমৎকারভাবে উন্মোচন করে। অস্কারের দৌড়ে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী।

দ্য ওডিসি

হোমারের শতবর্ষ পুরনো মহাকাব্যের এই রূপান্তরটি নিখাদ ক্রিস্টোফার নোলান স্টাইলের এক নিদর্শন। ওডিসিউস চরিত্রে ম্যাট ডেমনের স্বাভাবিক বাচনভঙ্গি রাজা চরিত্রটিকে সহানুভূতিশীল করেছে। অ্যান হ্যাথাওয়ে ও রবার্ট প্যাটিনসনের মতো তারকারাও এতে সাবলীল। আইম্যাক্স ক্যামেরার ব্যবহার প্রতিটি দৃশ্যকে গভীর ও জীবন্ত করেছে। ছবিটি নাগরিক দায়িত্ব ও সুশাসনের মতো সময়োপযোগী সামাজিক বার্তাও তুলে ধরেছে।

নির্বানা দ্য ব্যান্ড দ্য শো দ্য মুভি

ম্যাট জনসন ও জে ম্যাককারল রচিত এই কানাডিয়ান কমেডিটি এক উদ্ভাবনী অ্যাডভেঞ্চার। দুই বোকা স্বভাবের সম্ভাব্য সুপারস্টার ভুলবশত অতীতে টাইম ট্রাভেল করে চলে যায়। এটি বছরের অন্যতম কৌতুকপূর্ণ ছবি হলেও নিজ শহরের প্রতি তাদের আন্তরিক ভালোবাসা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতি এক হৃদয়গ্রাহী শ্রদ্ধাঞ্জলি।

দ্য শিপ ডিটেক্টিভস

লাইভ-অ্যাকশন ও সিজিআই অ্যানিমেশনের এই হাইব্রিড ছবিতে হিউ জ্যাকম্যান অভিনীত এক রাখালকে হত্যার পর ভেড়াগুলো ক্লু খুঁজে বের করতে মাঠে নামে। এমা থম্পসন ও জুলি লুই-ড্রেফাস (লিলি চরিত্রে কণ্ঠদাতা) ছাড়াও ক্রিস ও’ডড এবং ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের অভিনয় ছবিটি এখন পর্যন্ত বছরের অন্যতম মিষ্টি চমক!

২৮ ইয়ার্স লেটার : দ্য বোন টেম্পল

নিয়া ডাকোস্টার পরিচালনায় এই সিক্যুয়েলটি জম্বি ছবির আতঙ্ক উপহার দেওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব এক ফোক-হরর মিথ্স গড়ে তুলেছে। রালফ ফিয়েনেস ও নরখাদক চরিত্রে চি লুইস-পার্রি জুটির বাডি-কমেডি এবং জ্যাক ও’কনেলের অনবদ্য অভিনয় এটিকে এক অদ্ভুত মাস্টারপিস বানিয়েছে।

মাই ফাদারস শ্যাডো

আকিনোলা ডেভিসের এই নাইজেরীয় ছবিটিতে সোপে ডিরিসু এক পিতার চরিত্রে শান্ত ও হৃদয়স্পর্শী অভিনয় করেছেন। সামরিক একনায়কতন্ত্রের পটভূমিতে শিশুদের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি ফুটিয়ে তোলার এই প্রয়াস বাফটা জয় করেছে।

হপার্স

পিক্সার অ্যানিমেশনের এই ছবিতে দেখা যাবে মাবেল (পাইপার কুর্ডা) নামের এক সাহসী স্কুলছাত্রী রোবট কীভাবে প্রাণীদের ভাষা বুঝে দুর্নীতিপরায়ণ মেয়রের (জন হ্যাম) বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এতে চমৎকার বোকা বোকা অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি পরিবেশগত বার্তাও স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

ওয়াদারিং হাইটস

এমিলি ব্রন্টির উপন্যাসের এই পুনর্নির্মাণে মার্গট রবি ও জ্যাকব এলর্ডি (ক্যাথি ও হিথক্লিফ) অত্যন্ত উগ্র ও প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন। পরিচালক ইমারেল ফেনেল প্রচলিত পিরিয়ড পিস থেকে সরে এসে ভিজ্যুয়াল স্টাইলে রঙের ক্যালিডোস্কোপ ফুটিয়ে তুলেছেন।

প্রজেক্ট হেইল মেরি

অ্যান্ডি উইয়ারের উপন্যাস অবলম্বনে এবং ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মেরিডিয়ানের পরিচালনায় এই সায়েন্স ফিকশন ছবিতে রায়ান গসলিং এক স্মৃতিশক্তি হারানো জীববিজ্ঞানীর চরিত্রে পৃথিবীকে বাঁচানোর অভিনব গল্প উপহার দিয়েছেন।

টু প্রসিকিউটরস

সের্গেই লোজনিতসার এই কঠোর ড্রামায় স্তালিনের শুদ্ধি অভিযানের পটভূমিতে এক তরুণ সোভিয়েত আইনজীবীর অবিচার ফাঁস করার নিষ্ঠুর সংগ্রাম চিত্রিত হয়েছে। ছবিটি বর্তমান সময়ের কর্তৃত্ববাদকেও তীব্রভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ডেড ম্যানস ওয়্যার

গাস ভ্যান স্যান্টের এই ডার্ক কমেডি থ্রিলারে বিল স্কারসগার্ড শটগান হাতে এক মর্টগেজ ব্রোকারকে অপহরণ করে মিডিয়া সার্কাসের জন্ম দেন। ১৯৭০-এর দশকের এই প্রেক্ষাপট ‘ডগ ডে আফটারনুন’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়।

দ্য ড্রামা

জেডায়া ও রবার্ট প্যাটিনসন অভিনীত এই ছবিতে বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এক অন্ধকার গোপন সত্য প্রকাশের জেরে সৃষ্ট টানাপড়েন চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে, যা দর্শকের মনে গভীর চিন্তার খোরাক জোগায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত