খোলাবাজারে বিক্রির সময় ১০ ট্রাক ডুপ্লেক্স বোর্ড জব্দ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

বন্ড সুবিধায় (শুল্কমুক্ত) আমদানি করা ১০ ট্রাকভর্তি প্রায় ৭৩ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড খোলাবাজারে বিক্রির সময় জব্দ করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকা থেকে ডুপ্লেক্স বোর্ডভর্তি ট্রাকগুলো আটক করে। গতকাল শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইআইডি জানায়, গত ২৮ আগস্ট রাতে পণ্যগুলো নয়াবাজারে একটি আড়তে খালাস ও বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ট্রাকের গতিবিধি অনুসরণ করে অভিযান চালানো হয়।

ডুপ্লেক্স বোর্ড এক ধরনের পুরু কাগজ বা পেপারবোর্ড, যা মূলত দুটি স্তরের সমন্বয়ে তৈরি হয়। এর ওপরের পৃষ্ঠ সাধারণত মসৃণ ও সাদা রঙের হয় এবং নিচের দিকটি ধূসর বা অফ-হোয়াইট রঙের হয়ে থাকে। এটি প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন পণ্যের কার্টন ও প্যাকেজিং বাক্স, ওষুধ, প্রসাধন সামগ্রী ও খাদ্যপণ্যের প্যাকেট তৈরি, বইয়ের প্রচ্ছদ, ফাইল এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক সামগ্রী তৈরিতে এই ডুপ্লেক্স বোর্ড ব্যবহৃত হয়।

সিআইআইডি জানায়, পণ্যগুলোর নির্ধারিত গন্তব্য ছিল খুলনার একটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠান। তবে ট্রাকগুলো খুলনায় না গিয়ে নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশ করে। যে আড়তে বন্ডেড কাগজগুলো বিক্রির অপচেষ্টা চলছিল তার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম এখন প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক-১-এর নেতৃত্বে একটি দল বিভিন্ন ভাগে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে র‌্যাব-১০ এবং পুলিশের লালবাগ বিভাগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ওই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অভিযানকালে নয়াবাজারমুখী ১০টি ট্রাকের বহর কাস্টমস গোয়েন্দার উপস্থিতি টের পায়। এ সময় বহরের একটি ট্রাক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে নয়াবাজারে আগে থেকেই অবস্থানরত এবং পণ্য বিক্রির প্রস্তুতিতে থাকা আরও একটি ট্রাক শনাক্ত ও আটক করা হয়। পরে অভিযানস্থলে মোট ১০টি পণ্যবোঝাই ট্রাক কাস্টমস গোয়েন্দার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়। পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্ত ও আটকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযানে আটক ১০ ট্রাকে প্রায় ৭৩ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড পাওয়া গেছে।

আমদানি ও পরিবহন নথি অনুযায়ী ভারতের মেহালি পেপারস্ প্রা. লি. থেকে খুলনার শ্রী ফ্লেক্সোপ্যাক লি.-এর নামে পণ্যগুলো আমদানি করা হয়েছিল। আমদানিকারকের ঠিকানা তেলিগাতি, কুয়েট, আড়ংঘাটা, খুলনা। শুল্কায়ন ছাড় হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমএ আজাদ অ্যান্ড কোম্পানি লি.। পরিবহনের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ডেলটা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস।

বন্ড সুবিধার শর্ত ও সম্ভাব্য অনিয়ম : বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কারখানা বা গুদামে নিয়ে উৎপাদন কাজে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের পণ্য অন্য কোনো গুদাম বা আড়তে স্থানান্তর; খোলাবাজারে খালাস; বিক্রি বা হস্তান্তর; অথবা অনুমোদিত উৎপাদন কার্যক্রমের বাইরে ব্যবহার করা হলে তা বন্ড সুবিধার শর্ত লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় চূড়ান্ত তদন্ত, নথি যাচাই এবং বক্তব্য গ্রহণের পর নির্ধারিত হবে।

সরকারি রাজস্ব ঝুঁকি ও সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিআইআইডি। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্ত, পণ্যের সম্ভাব্য ক্রেতা বা আড়তদারদের চিহ্নিত এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র উদ্ঘাটনে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত