হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপিদের পুনঃতফসিলের সুযোগ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ এএম

১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের বৃহৎ ঋণখেলাপিদের জন্য ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (ঋণ পরিশোধে বিরতি) সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়নের এক বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এই সংক্রান্ত একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

নতুন সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, যেসব ঋণগ্রহীতা ‘ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাদি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটি’ থেকে নীতি সহায়তা নিয়েছেন তারা ব্যাংকে নতুন আবেদন করতে পারবেন।

চব্বিশের আন্দোলনের সময়কার অস্থির পরিস্থিতির কারণে ঋণ গ্রহীতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। এসব কোম্পানির ব্যবসা চালু রাখতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বড় ঋণ গ্রহীতাদের এমন সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তখন ঋণের পরিমাণ নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

সোমবারের সার্কুলারে বলা হয়েছে, খেলাপির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার কম হলে গত সেপ্টেম্বরে দেওয়া সুবিধা পাবেন ঋণ গ্রহীতারা।

এবার নতুন সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, নিয়মিত ঋণ বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় পাবেন ঋণ গ্রহীতারা।

নিয়মিত ঋণ পুনগর্ঠনের বিষয়ে ২০২২ সালের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ‘‘নিয়মিত মেয়াদী ঋণ পুনর্গঠনে মেয়াদী ঋণের (চলমান, তলবি বা অন্য কোন প্রকার ঋণ রূপান্তরের মাধ্যমে সৃষ্ট নয়) বিদ্যমান অবশিষ্ট মেয়াদের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মেয়াদ বর্ধিত করে ঋণ পুনর্গঠন করা যাবে। কোন ঋণ হিসাবকে ঋণের মেয়াদের মধ্যে শুধুমাত্র একবার এরূপ পুনর্গঠন সুবিধা প্রদান করা যাবে।’’

এবার নতুন করে গ্রাহকদের সুবিধা দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের রপ্তানিতে সাময়িক সময়ের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যহত হচ্ছে, যা গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অপরদিকে বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে ঋণ গ্রহীতা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুদ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক মন্দার কারণে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতাও কমে গেছে।

এছাড়া এনপিএল (খেলাপিঋণ) কমার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮ মাসের একটি পরিকল্না হাতে নিয়েছে, যেটির সূত্র ধরে বড় ঋণ গ্রহীতাদের এই সুবিধা দেয়া হল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত