কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ৪

আহত ১২ জনের বেশি, স্কুল খোলার দিনে নতুন হামলার আশঙ্কায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২ জনের বেশি মানুষ। খবর এএফপি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চালানো এ হামলার পর ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।

কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, রাতে কিয়েভ অঞ্চলজুড়ে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণকারী ড্রোন দিয়ে ব্যাপক হামলা চালানো হয়।

হামলার সময় রাজধানীতে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা প্রায় এক ডজন বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আকাশে একের পর এক আলোর ঝলক দেখতে পেয়েছেন। এর কিছুক্ষণ আগেই ইউক্রেনের বিমানবাহিনী কিয়েভ অভিমুখে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

কিয়েভের নগর সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, রাজধানীতে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

কিয়েভের পূর্বে অবস্থিত বরিসপিল এলাকায়ও হামলায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া একটি আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় আরও আটজন আহত হন।

এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছিল, কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যালিস্টিক অস্ত্রসহ অন্যান্য ধরনের হামলার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়।

স্কুল খোলার দিনে বাড়তি সতর্কতা

গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে মঙ্গলবার ইউক্রেনের শিশুরা স্কুলে ফিরছে। এর মধ্যেই নতুন করে রুশ হামলার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে এখন জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহারও বেড়েছে। এতে দিনে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত জারি করতে হচ্ছে।

এর আগে সপ্তাহান্তে কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলায় ৩৮ জন নিহত হন।

বেড়েছে দূরপাল্লার হামলা 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলায় গুদাম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, তেল স্থাপনা, বন্দর ও বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। হামলার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।

এদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে রয়েছে ইউক্রেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও এর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত