ইউক্রেনে রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ১২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে।
হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
আল জাজিরা জানায়, রাশিয়া তার মিত্র উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা পাচ্ছে বলে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সতর্ক করেছিলেন জেলেনস্কি। এর একদিন পরই ইউক্রেনজুড়ে রাতভর বড় ধরনের হামলা চালায় রাশিয়া।
জেলেনস্কি বলেন, উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে রাশিয়াকে হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া হামলা বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো, উত্তর কোরিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি সবকিছুই দেখাচ্ছে যে মস্কো শান্তির পরিবর্তে সংঘাত আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেলেনস্কি জানান, হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর শহরের বিভিন্ন ভবন ও যানবাহনে আগুন ধরে যায়।
নিহতদের সবাই জাপোরিঝস্তাল ইস্পাত কারখানার কর্মী বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে আরও ২১ কর্মী আহত হন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাতের হামলায় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভের একটি সংক্রামক রোগের হাসপাতালেও হামলা হয়েছে। এ ছাড়া খেরসন ও খারকিভে হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হামলায় কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের বন্দরে যাওয়ার পথে জাহাজে মার্কিন হামলা