টানা কয়েক ম্যাচ জালের দেখা না পাওয়া আর মনে জমা হওয়া আক্ষেপ-হতাশাগুলো যেন এক নিমিষেই ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল রেকর্ডের বন্যায়। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ৫-২ গোলের জাদুকরী জয়ের রাতে গোলখরা কাটানোর পাশাপাশি ইউরোপের ফুটবলে এমন এক ইতিহাস গড়লেন লামিন ইয়ামাল, যা এর আগে কখনো দেখেনি কেউ।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বার্সেলোনার জার্সিতে অর্ধশত গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ক্লাবটির প্রায় এক শতাব্দীর পুরোনো রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলেন এই বিস্ময় তরুণ। নিজেদের ফেরানোর রাতে জোড়া গোল করে কেবল নিজের খেরাই কাটালেন না, বরং কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের মতো আধুনিক ফুটবলের গোলমেশিনদের পেছনে ফেলে স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দিলেন এই বার্সা উইঙ্গার।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে এত কম বয়সে ৫০ গোলের রেকর্ড গড়ার রেকর্ড নেই আর কারও। এমবাপ্পে এই কীর্তি গড়েছিলেন ১৯ বছর ২৪১ দিন বয়সে আর হালান্ড ২০ বছর ১৯৬ দিন বয়সে, সেই তালিকায় ১৯ বছর ৪৯ দিনে এমন কীর্তি করে শীর্ষে এখন ইয়ামাল।
এদিকে ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য অস্বস্তিতে পড়েছিল হান্সি ফ্লিকের দল। ১২ মিনিটের মাথায় সার্জিও ক্যামেলোর গোলে এগিয়ে যায় ভায়েকানো। তবে সেখান থেকে ম্যাচের বাকি সময়টাই চলল ইয়ামাল-রাফিনহা শো। দুজনেই করেছেন জোড়া গোল।
১৯তম মিনিটে রাফিনহার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। এর মিনিট দুয়েক পরেই মার্ক বের্নালের পাস থেকে বক্সের কোণায় বল পেয়ে আগুনে গতির শটে ইয়ামাল যখন প্রতিপক্ষের জাল কাঁপালেন, তখনই স্পর্শ করলেন ফুটবল বিশ্বের বহু কাঙ্ক্ষিত এক মাইলফলক। মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে বার্সেলোনার মূল দলের জার্সিতে ক্যারিয়ারের ৫০তম গোলের দেখা পেলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ভেঙে গেল বার্সার প্রায় ৯১ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ১৯৩৫ সালে জোসেফ এসকোলা ২০ বছর বয়সে যে মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন, তা বহু দূরে ফেলে দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন ইয়ামাল। এমনকি রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেস বা আতলেতিকোর ফার্নান্দো তোরেসরাও বয়সের এই পরিসংখ্যানে তার চেয়ে অনেক পেছনে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি করে গোল করেছেন ইয়ামাল ও রাফিনহা। আর প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারে আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে বার্সার গোল সংখ্যা দাঁড়ায় পাচেঁ। ক্যামেলোও অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও একটি গোল। তবে তা কেবলই কমিয়েছ ব্যবধান। লিগা টানা হ্যাটট্রিক জয়ে গোল ব্যবধানে রিয়াল মাদ্রিদের থেকে এগিয়ে এই মুহূর্তে শীর্ষে আছে কাতালানরাই।
দীর্ঘ আট ম্যাচ ধরে গোলের খরায় ভুগে হতাশা প্রকাশ করা এই তারকার গোলের ক্ষুধা মিটেছে রাজকীয় ঢঙে। একই ম্যাচে ৫১তম গোলের দেখাও পেয়ে যাওয়া ইয়ামালের এই অদম্য পথচলা প্রমাণ করে, ফুটবল বিশ্ব কেবল একজন সম্ভাবনাময় তরুণকেই দেখছে না, বরং দেখছে এক আগামীর মহাতারকাকে।
রাষ্ট্রপ্রধানের শ্রদ্ধা: ‘অসম্ভবকে সম্ভব করা’ মেসিকে বিদায় জানালেন মিলেই