বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাঠে কাজ করার সময়ে বজ্রপাতে দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শৈলখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন ওই উপজেলার শৈলখালী গ্রামের মনোরঞ্জন বাছাড়ের বড় ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও ছোট ছেলে মানিক বাছাড় (৪০)।
স্থানীয় ও মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ জানান, বুধবার সকালে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে বড় ভাই বিধান বাছাড় ও তার ছোট ভাই মানিক বাছাড় ধানের ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বজ্রপাত হলেন ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। পরে মাঠে থাকা অন্য কৃষকরা এসে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বজ্রপাতে মৃত্যু
এক দশকের বেশি সময় আগেও বজ্রপাতকে বাংলাদেশে ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্যোগ হিসেবে দেখা হতো না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হলেও তা কমাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। বজ্রপাত কমাতে তালগাছ লাগানো, আশ্রয়কেন্দ্র করার মতো প্রকল্প হয়েছে। আগাম সতর্কসংকেত দেওয়ার কাজও করেছে কিছু প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে সেগুলো কাজে আসছে না।
আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার ধরন বদলে যাওয়া, পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে গাছ কাটাসহ নানান কারণে বজ্রপাত বেড়ে গেছে, এতে মৃত্যুও বাড়ছে। প্রতি বছর শতশত কৃষক, প্রান্তিক মানুষ মারা যাচ্ছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাধারণত মার্চের শেষ ও এপ্রিলের শুরুর দিকে বজ্রপাতের মৌসুম শুরু হয়। জুন ও জুলাই পর্যন্ত তা থাকে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেখা গেছে, এখন বজ্রপাতের কোনো হিসাব মিলছে না। বর্ষা ও শরৎকালেও এখন বজ্রপাত হচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে।