ফরিদপুরের মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

ফরিদপুর শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আমিন খান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবার দাবি নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) ফরিদপুর শহরে ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে’ এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত আমিন খান (৩৪) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের লোকমান খানের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক।

নিরাময় কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ ও মৃতের পরিবার জানায়, সম্প্রতি মানসিক ও আচরণগত কিছু অস্বাভাবিকতার কারণে প্রায় ১২ দিন আগে তাকে ফরিদপুর শহরে ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে উক্ত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে তার চিকিৎসা চলছিল। রবিবার দুপুরে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ ওই যুবকের পরিবারকে তার মৃত্যুর সংবাদ জানায়। মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পান। এ সময় নিহতের দুই হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার দাগ দেখতে পান স্বজনরা।

মৃতের ভাই রবিউল খানের অভিযোগ, রবিবার দুপুর একটার দিকে মোবাইলে কল করে আমার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এখানে আসার পর মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই অসংলগ্ন আচরণ করছে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া রিহ্যাব সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে মৃত্যুর আগে গভীর রাতে আমার ভাই আমিন খানকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল।

রবিউলের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। রিহ্যাব সেন্টারে শারীরিক নির্যাতনের কারণে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা কোতোয়ালি থানার অভিযোগ দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা হাকিম মোল্লা জানান, এখানে বিভিন্ন সময়ে মাদকাসক্তি ব্যক্তিদের মারধর ও আত্মচিৎকার শুনতে পাই। এর সাথে যারা জড়িত তাদের মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা করার ঘাটতি রয়েছে।

এব্যাপারে আল-করীম মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, আমিন খান রাতে ঘুমের সময় অন্যান্য রোগীদের নানাভাবে বিরক্ত করছিলেন। সকালের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রিহ্যাবে প্রাথমিকভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত  হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এবিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমির বলেন,  খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) গিয়ে মৃত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পাই। পরবর্তীতে আমরা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পৌঁছায়। সেখানে খোঁজখবর নেই এবং প্রাথমিকভাবে সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করি এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের  জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত