নাব্যতা সংকটে গুপ্তছড়ায় আটকা ফেরি কপোতাক্ষ, দুর্ভোগে ২৫০ যাত্রী

দীর্ঘ সময় ধরে ফেরিটি আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাবার ও পানির সংকট। ফেরির ক্যান্টিনেও বর্তমানে কোনো খাবার নেই বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ এএম
চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে নাব্যতা সংকটের কারণে গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে আটকা পড়েছে ফেরি কপোতাক্ষ।
 
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার ৮-৯ মিনিটের মধ্যেই খালের মুখে নাব্যতা হারিয়ে ফেরিটি আটকে যায়। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীসহ প্রায় ২৫০ জন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
 
দীর্ঘ সময় ধরে ফেরিটি আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাবার ও পানির সংকট। ফেরির ক্যান্টিনেও বর্তমানে কোনো খাবার নেই বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। দীর্ঘক্ষণ ফেরিতে অবস্থান করায় অনেক শিশুকে কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শ্বাসকষ্টে ভুগছে এমন অন্তত পাঁচটি শিশু এবং একজন বয়স্ক রোগী ফেরিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। তাদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনরা।
 
ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে রাত ৩টার দিকে ফেরিটি আবার চালু করার আশা করছি।’
 
বিআইডব্লিউটিসির এজেন্ট আর কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন বলেন, ‘রোগীসহ একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য প্রায় সাত মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে জোয়ারের পানি কমে যাওয়ায় ফেরিটি আটকে গেছে বলে ধারণা করছি। ফেরিতে ১৪৭ জন যাত্রীর টিকিট বিক্রির হিসাব পেয়েছি। বাসের যাত্রীর হিসাব আমার কাছে নেই। তবে ফেরিতে যাত্রীসহ দুটি বাস রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’
 
ফেরিতে আটকা পড়া যাত্রী আলমগীর বলেন, ‘গত সোমবার মুছাপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নিকটাত্মীয়ের মরদেহ নিয়ে এসেছিলাম। এরপর গতকাল থেকে চট্টগ্রামে ফেরার চেষ্টা করছি। কিন্তু নৌযান চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় যেতে পারিনি। এখন ফেরিতেই আটকা পড়েছি।’
 
যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুপ্তছড়া ঘাটের কূল ও খালের মুখে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং না করায় নৌপথে নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করেই ফেরি ও অন্যান্য নৌযানের চলাচলের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় নৌযান চলাচল সম্ভব হলেও ভাটার সময় প্রায়ই নাব্যতা সংকটে পড়ে নৌযান। এতে নির্ধারিত সময়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুপ্তছড়া চ্যানেলে নাব্যতা সংকটের বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও নিয়মিত ও কার্যকর ড্রেজিং করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা নিয়ে চলাচল করছেন সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌপথের যাত্রীরা। তাদের দাবি, দ্রুত গুপ্তছড়া চ্যানেল ও খালের মুখে কার্যকর ড্রেজিং করে নৌপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তা না হলে আসন্ন দিনগুলোতে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচলে আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত