যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি, কেনাকাটায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি। অভিযোগে সম্পৃক্ততা পাওয়া অন্যরা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল এ অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। গতকাল বুধবার দুদকের উপরিচালক (জনসংযোগ শাখা) আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের তথ্যমতে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের শত শত কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়েছে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন মোট ১৮৮ জন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলিবাণিজ্যে প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদে পদায়নের আদেশ দিয়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি দেওয়ার নামে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আদায় এবং তাদের পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। তিনি জানান, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি করে। ওই সিন্ডিকেট শুধু বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্যই নয়, যুব উন্নয়নের সব ধরনের কেনাকাটা ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এ অভিযোগের সঙ্গে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমীর (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই, ঢাকা) এবং আলী হোসেনসহ (নরসিংদী) আরও অনেক কর্মকর্তা জড়িত।
দুদকের তথ্যমতে, অনুসন্ধান টিম নথিপত্র সংগ্রহ করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের জন্য দুদকে তলব করা হবে।
এদিকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিট আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দুর্নীতির প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে দুদককে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন ‘১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতি করেছেন একজন উপদেষ্টা, একজন সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিবসহ আরও অনেকে মিলে। দুদক বলছে, প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ।’ এ বিষয়ে রাতে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে তিনি স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।