চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত মুখ মো. জয়নাল আবেদীন নাঈম। পুরো নাম মো. জয়নাল আবেদীন নাঈম হলেও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি পরিচিত ‘নাঈম ভাই’ নামে। হলের ডাইনিংয়ে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন তিনি।
প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন নিজের পড়াশোনাও। ভর্তি ছিলেন হাটহাজারী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সিজিপিএ ২ দশমিক ৭৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন নাঈম।
জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের ডাইনিংয়ে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন নাঈম। তবে জীবিকার সংগ্রাম তার পড়াশোনার স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারেনি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন হাটহাজারী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। একদিকে হলের ডাইনিংয়ে দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে পড়াশোনা, দুটি কাজই সমানতালে চালিয়ে গেছেন তিনি।
ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ, অন্যদিকে নিজের পরীক্ষার প্রস্তুতি, দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো সহজ ছিল না। তবুও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। নাঈমের এই অর্জনকে শুধু একটি একাডেমিক ফলাফল হিসেবে দেখলে তার গল্পের বড় একটি অংশই অজানা থেকে যায়। এর পেছনে রয়েছে জীবিকার সংগ্রামের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার দৃঢ়তা।
ডাইনিংয়ের কাজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের গল্প বলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রিয় নাঈম ভাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মো. জয়নাল আবেদীন নাঈম বলেন, ‘আমি ডাইনিংয়ে কাজ করলেও নিজের পড়াশোনা বাদ দিইনি। পরীক্ষার মৌসুমে অনেক বেশি কষ্ট অনুভব হতো। কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করা সহজ ছিল না। কাজ শেষে ফিরতেই ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। তারপরও মনে হতো পড়াশোনাটা শেষ করতেই হবে। আজ ফলাফল হাতে পেয়ে মনে হচ্ছে আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিয়ে করেছি। আমার একটি সন্তান আছে। পরিবারের কথা চিন্তা করলে নিজের মধ্যে দায়িত্ববোধটা যেন আরও বেড়ে যায়। এখন আমি শুধু নিজের জন্য স্বপ্ন দেখি না, আমার সন্তানকে ঘিরেই আমার সব স্বপ্ন। ওর ভবিষ্যৎ যেন ভালো হয়, ও যেন সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া। নিজের কষ্টের বিনিময়ে হলেও সন্তানের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে চাই।’