ঢাকা কাস্টম হাউজের কমিশনার

সোনা চোরাচালান রোধে বিমানবন্দরে কঠোর নজরদারি

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নজরদারির আওতায় আছে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোও। সাম্প্রতিক সময়ে সোনাসহ অবৈধ পণ্য আসার পরিপ্রেক্ষিতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা কাস্টম হাউজের কমিশনার মশিউর রহমান এই তথ্য জানান। 

বুধবার রাতে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট থেকে ৯ কেজির ওপরে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। এ ঘটনায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

কাস্টম হাউজের কমিশনার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি। আমাদের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার চোরাচালানের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চোরাকারবারীরা নানা সময়ে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে। তারপরও আমাদের শক্তিশালী নজরদারির কারণে ধরা পড়ার ঘটনা ঘটছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন মাসের ব্যবধানে তিন চালানে প্রায়  ১৫০ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে  প্রায় ১৮ কেজি সোনা জব্দ করা হয়। চালানটি দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮ কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর থেকে সাদা কাপড়ে মোড়ানো লুকায়িত অবস্থায় আসে। এখানে ১৫৩টি স্বর্ণের বার ছিল। যার মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম। ২৪ ক্যারেটের এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।

গত ২ জুলাই একই ধরনের আরেকটি চালান ধরা পড়ে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে উদ্ধার হয় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম সোনা। যার বাজার মূল্যা প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। গত ১৯ জুলাই কার্গো ভিলেজে ফলের ক্যারোটে ১৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে ফ্লাই দুবাই ফ্লাইট থেকে ৯ কেজির ওপরে স্বর্ণ জব্দ করা হয়। 

এদিকে স্বর্ণের বাইরেও নিষিদ্ধ ক্রিম, মোবাইল, ল্যাপটপ, সিগারেটসহ প্রতিদিন নানা কোটি কোটি টাকার অবৈধ পণ্য আটক হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত