২০২৫ সালের তুলনায় দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশের কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত অপরাধচিত্রের পরিসংখ্যান ও জেলাভিত্তিক সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে জানানো হয়, আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ও ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২য় পর্ব টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে আরও জানানো হয়েছে, তাবলিগ জামাতের সাদপন্থি অংশের মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থি অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়। সবার মতামত বিবেচনা করে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। এসব তথ্যের সঙ্গে আগের বছরের পরিসংখ্যান তুলনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো, সংখ্যা দিয়ে দেখিয়েছি। এটা হচ্ছে আমাদের সরকারি সূত্র। আপনারা চাইলে যাচাই করতে পারেন। অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের বিরোধ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও কাছে ভিন্ন কোনো পরিসংখ্যান থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশকে দিতে হবে। শিশু নিখোঁজের জিডি ১৫ হাজারের মতো হয়েছে এবং আগের সময়ের তুলনায় তা বেড়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই তথ্যের সূত্র জানতে চেয়ে বলেন, সেই কাগজটা আমাদের দেন, তথ্যটা যাচাই করে দেখি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিটি জেলা থেকে মাসিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংকলন করে সারা দেশের অপরাধচিত্র তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। আমি কথা বলব ডাটাভিত্তিক, প্রমাণভিত্তিক, আমাদের পুলিশের রেকর্ডভিত্তিক। সে ডাটাটা আপনারা যাচাই করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান চিত্রে সরকার সন্তুষ্ট হলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সময় লাগবে।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তাদের কাছ থেকে মালামাল জব্দ করেছে এবং আদালতে সোপর্দ করেছে। ছিনতাইকারীরা এখনো সক্রিয় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে নোটিস দিয়ে অপরাধ সংঘটিত হয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ছিনতাইয়ের প্রবণতা এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে।
এ সময় বাহিনীর ভেতরে থাকা কিছু পুলিশ সদস্য সরকারকে বিব্রত করতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গোপনে বাধা দিচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নও করা হয়। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে হবে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সেখান থেকেও বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়। আপনার কাছে তথ্য থাকলে দেন, আমরা যাচাই করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো হবে কি না প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটিয়ে তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ প্রতিবেদনে যা আছে : বৈঠক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর সংখ্যালঘু নির্যাতন, খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সন্ত্রাসসহ অপরাধের সব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। এছাড়া সরকার পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি, চাঁদাবাজ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন অপরাধে দেশ যখন বিপর্যস্ত, তখন সরকার একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এতে খুব শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পুলিশ সদরদপ্তরের অপারেশন শাখা থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ে পাঠানো বর্তমান সরকারের ছয় মাসে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ একটি প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।