মশা কেন কাউকে বেশি কামড়ায়

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ এএম

গবেষণা বলছে, যেসব মানুষের ত্বকে ‘কার্বক্সিলিক অ্যাসিড’র মাত্রা বেশি, মশার কাছে তারা আকর্ষণীয়। এদের শরীর থেকে যে রাসায়নিক মিশ্রণ বাতাসে ছড়ায়, তা মশাকে কামড়াতে প্রলুব্ধ করে। নিউ ইয়র্কের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, যেসব মানুষের ত্বকে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তারা স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশার কাছে ১০০ গুণ বেশি আকর্ষণীয়। মানুষের শরীরের ঘামে থাকা নানা রাসায়নিক উপাদানের কারণে, মশার আকৃষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তারতম্য হয়। তাদের অ্যান্টেনাতে বিশেষ ধরনের অলফ্যাক্টরি রিসেপ্টর (ঘ্রাণের সংবেদন) রয়েছে, যা দিয়ে ঘামের রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করে, মানুষকে খুঁজে পায় তারা। মশারা সাধারণত ফলমূল, লতাপাতা খায়। স্ত্রী মশা ডিম ফোটানোর জন্য রক্তের ওপর নির্ভরশীল হয়। কারণ তাদের প্রোটিনের প্রয়োজন, যে কারণে মানুষকে কামড়ায়। মানুষের রক্তের প্রতি মশার আকর্ষণ শুরু হয়েছিল, প্রায় ১৮ লাখ বছর আগে। গবেষকরা দেখতে পান, কার্বোক্সিলিক অ্যাসিডের প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয় মশা। এ অ্যাসিডে রয়েছে বিউটিরিক, যা দুর্গন্ধযুক্ত পনিরে পাওয়া যায়। এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। মানুষের দেহের তাপ, ঘাম এবং নিঃশ্বাসকে এরা ক্লু হিসেবে ব্যবহার করে। এসব শনাক্তের জন্য তাদের রয়েছে সংবেদনশীল অ্যান্টেনা। এরাই ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া ও জিকার মতো রোগ ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মশার কামড়ের ফলে ছড়ানো রোগে প্রতি বছর সাত লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ায়, মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত