চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে নতুন মডেলে কাজ শুরু : অর্থমন্ত্রী

শুধু নিরাপদ পানি সরবরাহ নয়, বর্ষাকালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

চট্টগ্রাম মহানগরীর পানি সংকট নিরসনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) নতুন মডেলে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নগরীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষের নিরাপদ পানি পাওয়ার সংকট দূর হবে। খবর বাসস।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে নতুন পিপিপি মডেল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।

মন্ত্রী বলেন, নগরীর ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন মডেলটির কার্যক্রম শুরু হবে। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর হলেও সবকিছু একা সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু নিরাপদ পানি সরবরাহ নয়, বর্ষাকালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহের চাহিদা নিরূপণ এবং নতুন সেবা মডেল পরীক্ষা করা হবে। গত মে মাসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ দুই ওয়ার্ডের প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানির সুযোগ সীমিত। মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে ওয়াসার পাইপলাইন রয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, অধিকাংশ বাসিন্দা বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানি কিনছেন। এতে তাদের ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি এসব এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততার মাত্রাও জাতীয় নিরাপদ সীমার তুলনায় প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত