স্বল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৬ এএম

লাখ লাখ বা কোটি কোটি টাকার মূলধন নয়, মাত্র ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পুঁজিতেই শুরু করা সম্ভব অত্যন্ত লাভজনক মোমবাতি তৈরির ব্যবসা। নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এই সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসার পথ দেখাচ্ছেন ‘ইমরান মেশিনারিজ’-এর স্বত্বাধিকারী ইমরান খান। বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ছাড়াই কীভাবে ঘরে বসে বা স্বল্প পরিসরে একটি উৎপাদনমুখী ব্যবসা দাঁড় করানো যায়, তারই এক দারুণ উদাহরণ এই উদ্যোগ।

মোমবাতি তৈরির মূল কাঁচামাল স্টেরিক অ্যাসিড, যা মূলত মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। এটি একটি কড়াইতে নিয়ে মাত্র পাঁচ মিনিট জাল দিলেই তরলে পরিণত হয়। এরপর নিজস্ব কারখানায় তৈরি বিশেষ ডাইসে সুতা লক করে তরল কেমিক্যাল ঢেলে দিলেই খুব সহজে তৈরি হয়ে যায় ঝকঝকে সাদা মোমবাতি। বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত পাঁচ টাকা ও দশ টাকা দামের মোমের জন্য ঢালাই লোহা বা সিলভারের ডাইস ব্যবহার করা হয়। তা ছাড়া গ্রাহকের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ সাইজ থেকে শুরু করে তিন থেকে পাঁচ ফুট লম্বা মোমের ডাইসও বানিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অত্যন্ত দ্রুত ও সহজ উৎপাদন প্রক্রিয়া। প্রতিটি ডাইস থেকে প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর ৩৬ থেকে ৪২ পিস মোমবাতি তৈরি করা যায়। একজন ব্যক্তি একটি ডাইস দিয়ে দিনে দেড় থেকে দুই হাজার পিস এবং পাঁচটি ডাইস ব্যবহার করে দিনে আট থেকে দশ হাজার পিস মোমবাতি অনায়াসে একা উৎপাদন করতে পারেন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এই ব্যবসায় কোনো ধরনের অপচয় বা লোকসান নেই। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো মোম ভেঙে গেলে বা নিচে পড়ে নষ্ট হলে তা পুনরায় গলিয়ে নতুন করে মোমবাতি তৈরি করা যায়। এ ছাড়া সাধারণ সাদা মোমের শেষ প্রান্ত দুটি আলাদা রঙের কেমিক্যালে ডুবিয়ে আকর্ষণীয় দ্বি-রঙা ডিজাইন করা যায়, যেগুলোতে বিক্রয়মূল্য ও লাভের পরিমাণ আরও বেশি থাকে।

অনেকেই মনে করেন এখন আলো বা বিদ্যুতের সমস্যা কম বলে মোমবাতির চাহিদা হয়তো নেই। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি স্থানীয় মুদির দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও নানা নান্দনিক প্রয়োজনে মোমবাতির নিয়মিত বাজার চাহিদা রয়েছে। মাত্র ২০ হাজার টাকায় একটি ডাইস ও কাঁচামাল নিয়ে অথবা ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার টাকায় সম্পূর্ণ সেটআপ কিনে যে কেউ এই কাজ শুরু করতে পারেন।

পরিবারের দু-একজন সদস্য মিলে স্বল্প শ্রমে ও নামমাত্র পুঁজিতে ঘরে বসেই এই ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব। সদিচ্ছা, সঠিক মার্কেটিং এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বজায় রাখতে পারলে এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকেই মাসে বিপুল পরিমাণ বিক্রির পাশাপাশি একটি স্থায়ী আত্মকর্মসংস্থানের ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত