ইপিএস প্যানেলে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসন

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ এএম

আধুনিক নির্মাণের যুগে ইট, বালু আর সিমেন্টের প্রথাগত ধারণাকে বদলে দিচ্ছে নতুন এক প্রযুক্তি। প্রথম দর্শনে সাধারণ কোনো বোর্ড মনে হলেও, এটি মূলত ইপিএস (expanded polystyrene) ইনসুলেশন প্যানেল। ডেমরার ‘এএসএ ইপিএস ইনসুলেশন অ্যান্ড প্যাকেজিং’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুল ইসলাম বাবু বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে এই ইনসুলেশন প্যানেল তৈরি করে নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ে এসেছেন অভাবনীয় পরিবর্তন।

বিদেশে পড়াশোনা ও কাজ করার সুবাদে এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হন উদ্যোক্তা সাইদুল ইসলাম। পরবর্তী সময় ২০০৮ সালের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবং স্থানীয় এক ক্লায়েন্টের উৎসাহে বাংলাদেশে এর উৎপাদনে নামেন তিনি। শুরুর দিকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হলেও ধীরে ধীরে তিনি দেশীয় বাজারে এই প্যানেলের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্যাকেজিং বা প্রথাগত পার্টিশনের বাইরে এসে এই প্যানেল দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব। ইট-বালুর গাঁথুনিতে একটি দেয়াল তুলতে যেখানে এক মাস সময় লাগে, সেখানে এই প্যানেল দিয়ে মাত্র ১৫ দিনে কাজ শেষ করা যায়। এই প্রযুক্তিতে ফ্লোরে ইউ-চ্যানেল বসিয়ে রয়্যাল বল্টু ও নাট-বল্টুর সাহায্যে স্ট্রাকচার তৈরি করা হয়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সম্পূর্ণ বাড়িটি পার্ট বাই পার্ট খুলে অন্য জায়গায় স্থানান্তর ও পুনরায় অ্যাসেম্বল করা যায়।

ইপিএস প্যানেলের মূল কাজ হলো চমৎকার তাপ নিয়ন্ত্রণ করা। ইটের দেয়াল দিনের বেলায় শোষিত তাপ রাতে ঘরের ভেতর ছড়ায়, যা ঘরকে অস্বস্তিকর করে তোলে। কিন্তু ইনসুলেশন প্যানেল বাইরের অতিরিক্ত তাপ বা আর্দ্রতা ভেতরে আসতে দেয় না। ফলে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ও আরামদায়ক থাকে। এতে এসি ব্যবহারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তা ছাড়া ইটের তুলনায় এর নির্মাণ খরচও অনেক কম।

প্রয়োজনাঙ্কুর ঘর বাড়ানো বা কাস্টমাইজ করার স্বাধীনতা থাকায় এটি বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে কোল্ড স্টোরেজ, বাণিজ্যিক ওয়্যারহাউস, হোটেল-রেস্তোরাঁর চিলার রুম এবং বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের সাইট অফিসে কনটেইনারের বিকল্প হিসেবে এটি বহুল ব্যবহৃত। খাদ্য ও পানীয় শিল্পে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য এই রুফ ও ওয়াল প্যানেলের জুড়ি নেই।

পোলট্রি শিল্পের ক্ষেত্রেও এটি এক দারুণ পরিবর্তন এনেছে। আগে ত্রিপল বা টিনের শেডে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকায় খামারের বাচ্চা মারা যেত বা মুরগির সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতো। ইপিএস প্যানেল দিয়ে নির্মিত নিয়ন্ত্রিত খামারে রোগবালাই ও ভাইরাসের ঝুঁকি কমে এসেছে অনেকটাই।

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই তাপ নিরোধক প্যানেল বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব, স্থানান্তরযোগ্য ও সাশ্রয়ী আবাসনের এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত