সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে মহান নেয়ামত। সন্তান যেন ইমান, চরিত্র ও নেক আমলের ধারক হয়, এটিই মুমিনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। পবিত্র কোরআনে নবী ও নেক বান্দাদের এমন কিছু দোয়া বর্ণিত হয়েছে, যেখানে সন্তান লাভের পাশাপাশি তাদের নেককার ও চোখের শীতলতা হওয়ার আকাক্সক্ষাও প্রকাশ পেয়েছে। নেক সন্তান লাভের জন্য কোরআনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া উল্লেখ করা হলো।
এক. হজরত জাকারিয়া (আ.) নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়ে যান। কিন্তু আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হননি। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, ‘রব্বি হাবলি মিল্লাদুনকা জুররিয়্যাতান তাইয়্যিবাতাহ, ইন্নাকা সামিউদ দোয়া।’ অর্থাৎ হে আমার রব! আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে নেক সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি দোয়া শ্রবণকারী। (সুরা আলে ইমরান ৩৮)
এখানে জাকারিয়া (আ.) শুধু সন্তান চাননি, চেয়েছেন ‘তাইয়্যিব’ তথা পবিত্র ও নেক সন্তান। এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সন্তান লাভের আকাক্সক্ষার সঙ্গে তার ইমান ও চরিত্রের আকাক্সক্ষাও থাকা উচিত।
দুই. পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইউনিও, ওয়াজআলনা লিলমুত্তাকিনা ইমামা।’ অর্থাৎ হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন স্ত্রী-সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন। (সুরা আল ফুরকান ৭৪)
এই দোয়ায় এমন স্ত্রী-সন্তান চাওয়া হয়েছে, যাদের দেখে হৃদয় প্রশান্ত হয়। এরপর নিজেদের জন্যও মুত্তাকিদের ইমাম বা আদর্শ হওয়ার প্রার্থনা করা হয়েছে। অর্থাৎ নেক সন্তান চাওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের নিজেদের নেক হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও এখানে স্পষ্ট।
তিন. হজরত ইবরাহিম (আ.) মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, ‘রব্বি হাবলি মিনাস সলিহিন।’ অর্থাৎ হে আমার রব! আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন। (সুরা সাফফাত ১০০) এই দোয়ার পর মহান আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দেন।
এই তিন দোয়ার মধ্যে একটি গভীর শিক্ষা রয়েছে। সন্তান আল্লাহর দান, তাই তার জন্য প্রথম আশ্রয়ও হতে হবে আল্লাহর দরবার। দোয়ার সঙ্গে বাবা-মায়ের নিজেদের আমল সংশোধন, হালাল উপার্জন, উত্তম চরিত্র এবং সন্তানের জন্য নেক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা থাকতে হবে। কারণ নেক সন্তান শুধু চাওয়ার বিষয় নয়, তাকে নেক পথে গড়ে তোলার দায়িত্বও বাবা-মায়ের।
মহান আল্লাহ আমাদের এমন সন্তান দান করুন, যারা হবে ইমানদার, নেককার এবং দুনিয়া ও আখেরাতের বাবা-মায়ের জন্য কল্যাণকর। আমিন।