নবীজির কর্মজীবনে আমাদের শিক্ষা

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ এএম

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন কর্মঠ ও দায়িত্বশীল মানুষ। তার জীবনে অলসতার কোনো স্থান ছিল না। নবুয়তের আগে যেমন তিনি জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করেছেন, নবুয়তের পরও মানুষের কল্যাণ, দাওয়াত, সমাজ পরিচালনা ও পরিবারের দায়িত্ব পালনে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। আজ আমরা সামান্য অবসর পেলেই অনেক সময় গা ছেড়ে দিই। কাজ ফেলে রাখি, সময় নষ্ট করি। অথচ নবীজি (সা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়, একজন মানুষের জীবনে কাজ, দায়িত্ব ও পরিশ্রমের কতটা গুরুত্ব রয়েছে।

বকরি চরানো : নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি বকরি চরাননি। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, আপনিও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি কয়েক কিরাতের (আরব মুদ্রা) বিনিময়ে মক্কার মানুষের বকরি চরাতাম। (সহিহ বুখারি ২২৬২)

বকরি চরানো হয়তো আজ বড় কোনো পেশা নয়। কিন্তু এর মধ্যেও ছিল দায়িত্ব, ধৈর্য ও পরিশ্রম। একটি পশুর পালকে নিরাপদে রাখা, তাদের দেখাশোনা করা এবং সময়মতো ফিরিয়ে আনা, এসবের জন্য মনোযোগ ও দায়িত্ববোধ প্রয়োজন। আমাদের জন্য এখানেই একটি বড় শিক্ষা আছে, কোনো সৎকাজ ছোট নয়।

ব্যবসা : নবীজি (সা.) তরুণ বয়সে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি নিজে ব্যবসা করেছেন। এ ছাড়া খাদিজা (রা.)-এর বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে ব্যবসায়িক সফরে মক্কার বাইরে যান। ব্যবসার ক্ষেত্রে তার সততা ও বিশ্বস্ততার খ্যাতি ছিল খুব। এতে তিনি আল-আমিন তথা বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিতি পান।

ঘরের কাজ : নবীজি (সা.) শুধু বাইরে বড় দায়িত্ব পালন করতেন না, নিজের ঘরের কাজেও সহযোগিতা করতেন। আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নবীজি (সা.) ঘরে কী করতেন? তিনি বলেন, তিনি পরিবারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন অর্থাৎ পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন, নামাজের সময় হলে নামাজে চলে যেতেন। (সহিহ বুখারি ৬৭৬)

হাদিসে এসেছে, তিনি নিজের কাপড় সেলাই করতেন, জুতা মেরামত করতেন এবং ঘরে মানুষ যে ধরনের কাজ করে, সেসব কাজ করতেন। (মুসনাদে আহমদ) এখান থেকে পরিবারের পুরুষদের জন্যও বড় শিক্ষা আছে, সংসারের কাজে সহযোগিতা করা মর্যাদাহানিকর নয়।

নবুয়তের পরের অবস্থা : নবুয়ত লাভের পর তার দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হয়। মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা, কোরআনের শিক্ষা দেওয়া, সাহাবিদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, মানুষের বিরোধ মীমাংসা করা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা দায়িত্ব পালন, সবকিছুর সঙ্গে তাকে যুক্ত থাকতে হয়েছে। মদিনায় তিনি একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বও দিয়েছেন। ফলে তার কর্মজীবনকে শুধু একটি পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত