ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় গ্রাহকরা সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে নির্ধারিত ফি দিয়ে তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিল ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এ ধরনের ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ৩১ দিন। এর মধ্যেই গ্রাহককে ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এই নতুন ঋণসুবিধা দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। তবে প্রত্যেক ব্যাংক এ ঋণসুবিধা বাণিজ্যিকভাবে চালু করার পূর্বে অবশ্যই ছয় মাসের জন্য পাইলট স্কিম পরিচালনা করতে হবে বলেও নির্দেশে বলা হয়েছে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
সার্কুলার অনুযায়ী, ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের আওতায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সেবার বিল পরিশোধ করতে ঋণ নেওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ফি, টোল ও টিকিটের খরচ, করসহ বিভিন্ন সরকারি ফি, আমানতের কিস্তি, বীমা প্রিমিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত অন্যান্য খরচ।
ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদভেদে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা ফি নেওয়া যাবে। অন্যদিকে ৭,০০১ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা ফি নেওয়া যাবে।
সার্কুলারে বলা হয়, ঋণের মূল অর্থ ও প্রযোজ্য ফি যথাক্রমে ৮, ১৬ অথবা ৩১তম দিনে সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের অর্থ নির্ধারিত সেবা প্রদানকারীর অনুকূলে অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে হবে। অর্থ নগদে রূপান্তর করা, গ্রাহকের ওয়ালেটে যোগ করা বা অন্য কোনো হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না।
গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের আগেও ঋণ পরিশোধ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো ফি, সুদ, প্রি-পেমেন্ট, আর্লি সেটেলমেন্ট বা ফোরক্লোজার চার্জ আরোপ করা যাবে না। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দৈনিক ভিত্তিতে জরিমানা বা ফি নেওয়া যাবে এবং তা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহককে ঋণের ধরন, পরিমাণ, ফি, মেয়াদ ও পরিশোধ পদ্ধতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব শর্ত জানাতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে বলা হয়েছে।
গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ডিজিটাল অনবোর্ডিং সম্পন্ন করতে হবে এবং ওটিপি, দুই স্তরের যাচাইকরণ (টুএফএ), মাল্টিফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) বা অন্য কোনো নিরাপদ পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
এ ঋণসুবিধা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং অন্যান্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সেবা চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে। গ্রাহক ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে অবস্থিত ডেটা ওয়্যারহাউসে সংরক্ষণ এবং তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।