দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ এএম

দীর্ঘদিন ধরে কোমরে, হাঁটুতে বা ঘাড়ে ব্যথা নিয়ে জীবনযাপন করা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকে বছরের পর বছর যন্ত্রণাদায়ক এই ব্যথা সহ্য করেন আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে পেইনকিলার (ব্যথানাশক ওষুধ) খেয়ে যান। ফলে কিডনি জটিলতা, আলসার কিংবা লিভারের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনেন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আশীর্বাদে এখন পেইন মেডিসিন (চধরহ গবফরপরহব) একটি বিশেষায়িত শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা ব্যথামুক্ত জীবন গঠনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। একজন পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমরা শুধু ব্যথার ওষুধ দিয়ে ব্যথা চাপিয়ে রাখার পক্ষে নই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ব্যথার মূল উৎস খুঁজে বের করা এবং অস্ত্রোপচার ছাড়াই বা ন্যূনতম ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে রোগের সমাধান করা। 

পেইন মেডিসিন কেন প্রয়োজন

পেইন মেডিসিন হলো একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা শাখা। ব্যথাকে শুধু সহ্য নয়, চিকিৎসাও করা যায়। ব্যথা শরীরের একটি সতর্কসংকেত। আঘাত, অস্ত্রোপচার, স্নায়ুর সমস্যা, বাত, মেরুদ-ের জটিলতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ব্যথা যখন দীর্ঘদিন থাকে, তখন তা শুধু শারীরিক অস্বস্তি না ঘুম, চলাফেরা, কাজকর্ম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পেইন মেডিসিন।

পেইন মেডিসিনে রোগীর ব্যথার মূল কারণ, ধরন, তীব্রতা ও কত দিন ধরে রয়েছে এসব বিবেচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। চিকিৎসায় প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, ব্যায়াম, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, স্নায়ু ব্লক বা নির্দিষ্ট ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আলট্রাসাউন্ড বা এক্স-রে নির্দেশিত ইনজেকশন, এপিডুরাল ইনজেকশন কিংবা রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের মতো পদ্ধতিও বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি কোমর ও ঘাড়ের ব্যথা, সায়াটিকা, আর্থ্রাইটিস, স্নায়ুর ব্যথা, ক্যানসারজনিত ব্যথা এবং অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ব্যবস্থাপনায় পেইন মেডিসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে ব্যথা হলেই নিজে থেকে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক খাওয়া ঠিক নয়। কোন ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন, তা নির্ভর করে ব্যথার কারণের ওপর। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার ফিরে আসা ব্যথার ক্ষেত্রে পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত