চিফ প্রসিকিউটর বললেন

২৫০ গুমের তদন্ত হবে কিছু আসামি নাশকতা করতে পারে

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ এএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ওই আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে তাদের কিছু বিষয় সন্দেহজনক লেগেছে। গোপন তথ্য আছে যে, তারা যেকোনো নাশকতা করতে পারে।’ গতকাল রবিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা এদিন প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আসেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’- এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২৫১ জনকে গুমের মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তদন্ত করা হবে।

ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে যারা নিরাপত্তার কাজ করেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়াতে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা আমাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু গোপন তথ্য আমাদের কাছে আছে যে, তারা যেকোনো স্যাবোটাজ (নাশকতা) ঘটাতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের ভেতরে-বাইরে প্রতিটি কর্মকান্ড আমাদের নজরদারিতে আছে। কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, এটা তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে। অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, তারা তাদের মতো করেই যেকোনো সময় ছোবল মারতে পারেন।’

অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ আমাদের কাছে ছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থা গুমের শিকার পরিবারের এই বিচারের তদন্ত কাজ করে যাচ্ছে। ২৫১ জন যারা গুমের শিকার, তাদের প্রত্যেকের একই রকম, একই পদ্ধতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। সেই কারণে আমরা এই ২৫১ জনের এই ঘটনাটাকে ‘ওয়াইডস্প্রেড’ এবং ‘সিস্টেমেটিক অফেন্স’ বলে মনে করি। যেটা শুধুই গুম না, এটা মানবতাবিরোধী অপরাধ।’

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ‘এই পরিবারগুলোর অভিযোগের তদন্ত যখনই শুরু হয়েছে, কিছু কিছু অপরাধীর তৎপরতাও কিন্তু বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে যে বিচার চলছে, যাদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের নজর রাখার প্রয়োজন আছে। গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের প্রতিও লক্ষ রাখার বিষয় আছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত